মিয়ানমারে গণহত্যা, অভিযোগের সমর্থনে তথ্য দিয়েছে মেটা

মেটা
ছবি: ফেসবুক

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) তদন্তদলের প্রধান গত সোমবার বলেছেন, ফেসবুক মিয়ানমারের লাখ লাখ উপকরণ হস্তান্তর করেছে, যা যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগকে সমর্থন করতে পারে। খবর ইন্ডিপেনডেন্টের।

ইউএনএইচআরসি ২০১৮ সালে মিয়ানমারে ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম) নামের একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। এর প্রধান নিকোলাস কমজিয়ান। তিনি বলেন, ফেসবুক বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের নেটওয়ার্ক থেকে লাখো উপকরণ হস্তান্তর করেছে। এসব তথ্য ও উপকরণ ফেসবুকের পক্ষে সাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। কারণ, এসব উপকরণ অ্যাকাউন্টের পরিচিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীরা ফেসবুককে মিয়ানমারে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বাহক হিসেবে অভিযুক্ত করে বলে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উসকে দিয়েছিল ফেসবুক।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া ২০১৯ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে গণহত্যার মামলা করে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের আগস্টে জাতিগত নিধন শুরু হলে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রায় ১২ লাখ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গাম্বিয়া গণহত্যা সনদের আওতায় মিয়ানমারর বিরুদ্ধে আইসিজেতে ওই মামলা করেছিল।

২০২১ সালে ফেসবুক (বর্তমান নাম মেটা) জানায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহির জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে তারা। ওই বছরেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করে। মামলায় বলা হয়, ফেসবুক ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়াতে ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিপজ্জনক ভুয়া তথ্য ছড়াতে সহায়তা করেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেটার মানবাধিকার নীতির পরিচালক মিরান্ডা সিসনস বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘের অনুসন্ধানী ব্যবস্থায় স্বেচ্ছায়, আইন মেনে তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি গণহত্যার মামলা করা গাম্বিয়ার কাছে জনসাধারণের তথ্য প্রকাশ করেছি।’

গত সোমবার আইআইএমএম প্রধান কমজিয়ান বলেন, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেওয়া প্রত্যেক রোহিঙ্গা সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছে, যখন তারা নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরতে পারবে। যারা সহিংসতা উসকে দিয়েছে, তাদের দায়মুক্তি বন্ধ হলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। যারা মনে করে তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে না, এমন মানুষের জবাবদিহির অভাবেই মিয়ানমারের জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ইউএনএইচআরসি প্রধান, আইআইএমএম বিচারক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য ৬৭টি প্রমাণমূলক এবং বিশ্লেষণাত্মক প্যাকেজ তৈরি করেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কার্যক্রমও যুক্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০০টি সূত্র থেকে ৩০ লাখের বেশি তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।