default-image

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনে হামলা নিয়ে পুতিনের কাছে এসসিও সম্মেলনে চীন ও ভারত যে মন্তব্য করেছে, তাতে রাশিয়ার ওপর হামলা বন্ধ করতে চাপ বাড়বে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সম্মেলনে পুতিন ও সি একত্রে এসসিও সদস্যদেশ ভারত, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশের নেতাদের একত্র করার সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া সম্মেলেন ইরান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টরাও উপস্থিতি হন।

চীন ও ভারতের কাছ থেকে যা শুনেছেন, তা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের প্রতিফলন। আমি মনে করি, এটি আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াবে।
অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুতিন ও সি দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি বৈঠক করেন। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে সি চিন পিং চীনের বাইরে যাননি।

পশ্চিমকেন্দ্রিক সংস্থাগুলোর বিকল্প হিসেবে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনটিকে সামনে এনেছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনে হামলা নিয়ে মস্কোর ওপর একদিকে চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ক্ষুব্ধ বেইজিং। এই পরিস্থিতিতে এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মলেনে সি চিন পিং বলেন, আন্তর্জাতিক পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানো ও ব্লক রাজনীতি বন্ধ করার এখনই সময়। সম্মেলনের যৌথ আলোচনায় সি আরও বলেন, তাঁদের উচিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার উন্নয়নকে আরও ন্যায়সংগত এবং যুক্তিসংগত দিকে উন্নীত করার জন্য একসঙ্গে কাজ করা।

ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র

পশ্চিমের বাইরের দেশগুলোর ক্রমবর্ধনার প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রশংসা করেন পুতিন। তিনি পশ্চিমকে রক্ষাবাদ, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার যন্ত্র বলে অভিহিত করে তার নিন্দা করেন। তিনি বলেন, পরস্পরকে সহযোগিতা করে, এমন দেশগুলোর ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রের ভূমিকা বাড়ছে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে এটাই পুতিনের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ। তবে এবারের সম্মেলনটি পুতিনের জন্য খুব বেশি সুখকর ছিল না। সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা বলেন। পুতিনের পক্ষ থেকে দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিয়েভ আলোচনা প্রত্যাখ্যান করছে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘চীন ও ভারতের কাছ থেকে যা শুনেছেন, তা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের প্রতিফলন। আমি মনে করি, এটি আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াবে।’

সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও আলোচনা করেন পুতিন ও সি। এরদোয়ান সম্মেলনে আসা নেতাদের কাছে কূটনৈতিক উপায়ে দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কথা বলেন। পুতিনের পক্ষ থেকে এরদোয়ানকে বলা হয়, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহী তাঁর দেশ। এ ছাড়া তুরস্কে রপ্তানি বাড়াতেও চান তাঁরা। উল্লেখ্য, কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানির চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তুরস্ক।

ইউক্রেনে রুশ সেনারা বড় ধরনের পাল্টা হামলার মুখে পড়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে রাশিয়া। এ পরিস্থিতে মস্কো যে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি, তা দেখানোর বড় সুযোগ হিসেবে এ সম্মেলনকেই বেছে নিয়েছেন পুতিন। আর সির জন্য অক্টোবরে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে বিশ্বব্যাপী নিজের প্রভাব জাহির করার সুযোগ ছিল এবারের সম্মেলন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন