জাপানের পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আজ শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাপানে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ক্ষমতাসীন দলকে বড় জয়ের পথে নিয়ে যেতে তিনি আগাম নির্বাচন দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি গত সোমবারই এই নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করতে জনগণের সরাসরি সমর্থন পেতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ শুক্রবার পার্লামেন্টের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, এ সময় আইনপ্রণেতারা ঐতিহ্যবাহী আনন্দধ্বনি ‘বানজাই’ উচ্চারণ করেন।
বর্তমানে তাকাইচির দল ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) জোট পার্লামেন্টে খুব সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হলেও তাঁর দল এলডিপি বেশ কিছু কেলেঙ্কারির কারণে জনসমর্থন বেশ কমেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানুষ তাকাইচিকে পছন্দ করলেও দলকে কতটা ভোট দেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
জাপানের সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সরকারি ভর্তুকির কারণে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে চালের মতো নিত্যপণ্যের দাম এখনো গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
তাকাইচি ২০২৬ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া অর্থবছরের জন্য ৭৭ হাজার কোটি ডলারের রেকর্ড পরিমাণ বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছেন। তবে বিরোধীদের দাবি, এখনই নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার ফলে পার্লামেন্টে এই বাজেট পাসের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সংকটে ফেলবে।
ক্ষমতায় ফিরলে তাকাইচি আগামী দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর বিক্রয় কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জাপানের ঋণের বোঝা বর্তমানে তাদের মোট জিডিপির ২৩০ শতাংশেরও বেশি। তাকাইচির বিশাল বাজেটের পরিকল্পনা অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
জাপানের প্রধান বিরোধী দল সিডিপি এবং কোমেইতো একজোট হয়ে তাকাইচির বিরুদ্ধে ‘সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স’ গঠন করেছে। তারা বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবয়সী ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
তবে জরিপ অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে তাকাইচির সমর্থন প্রায় ৯০ শতাংশ, যা তাঁকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।