নিজের ফেসবুক পেজে মাহাথির লিখেছেন, ‘মালয়েশিয়ার ইতিহাসে অনেক ঘটনা আছে, যার কোনো রেকর্ড নেই। এর মধ্যে ব্রিটিশ শাসনামলের নানা ইতিহাস রয়েছে।’ ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে ১৯৮১ সালে তিনি ব্রিটিশ পণ্য আমদানি সীমিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ‘বাই ব্রিটিশ লাস্ট’ নামের নীতিমালা গ্রহণ করেন। তবে সম্প্রতি ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে তিনি শোক প্রকাশ করেন। মাহাথির রানির সম্পর্কে বলেন, সাংবিধানিক রাজার ভালো উদাহরণ ছিলেন তিনি।

মাহাথির তাঁর লেখালেখির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর লেখার মধ্যে পশ্চিমাবিরোধী স্পষ্ট সুর পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হন, তখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তাঁর নাম ওঠে। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি কঠোর হাতে শাসন করেছিলেন বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে মালয়েশিয়াকে বদলে দেওয়ার রূপকার হিসেবেও প্রশংসিত হন তিনি। মালয়েশিয়ার নাজিব রাজাকের সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি পাকাতান হারাপান দলে নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৮ সালে ১৫ বছরের অবসর ভাঙেন।

সরকার গঠনে অচলাবস্থা কাটেনি

এদিকে শনিবারের ভোটে কোনো দল ও জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটির সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। শনিবার মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে আনোয়ার ইব্রাহিমের জোট পাকাতান হারাপান (পিএইচ) ৮২টি আসনে জয় পায়। আর মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের জোট পেরিকাতান ন্যাসিওনাল (পিএন) পেয়েছে ৭৩ আসন। কোনো জোটই ২২২ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেখাতে পারেনি। সরকার গঠনে ১১২ আসন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষ সমঝোতা করতে রাজি না হওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজকীয় সুলতানদের (কাউন্সিলস অব রুলার্স) নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন দেশটির রাজা আল-সুলতান আবদুল্লাহ।