অনেক এলাকায় পৌঁছাতেই পারেননি উদ্ধারকর্মীরা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে গত সোমবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছে পৌঁছাতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাঁরা গতকাল বুধবারও অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি।
গতকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৫ জনে। খবর এএফপি, এপি ও ডনের।
যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেও উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভূমিকম্পের ফলে বাড়িঘর ও সহায়-সম্বল হারানো মানুষগুলো প্রচণ্ড শীতের মধ্যে নিদারুণ কষ্টে আছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের শাংলা জেলার বাসিন্দা জামিল খান (২৪) বলেন, ‘আমাদের সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। এখন আমরা খোলা আকাশের নিচে বাস করছি। এর মধ্যে গতকাল (গত মঙ্গলবার) বৃষ্টি হয়েছে। কেউই সাহায্য করতে এল না।’
পাকিস্তানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা সাড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যেহেতু প্রত্যন্ত অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে, সেহেতু এর সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা জানে না তারা।
প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় খাদ্য-সংকট দেখা দিয়েছে। শাংলা জেলার বাসিন্দা হাকিম খান (৬০) বলেন, ‘আমরা সবকিছু হারিয়েছি। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।’
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গত মঙ্গলবার পরিদর্শনে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ গৃহহীন মানুষদের জন্য ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা গতকালও আগের দিনের ১১৫ জনেই স্থির ছিল। তবে পশ্চিমা দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা।