অস্ট্রেলিয়ায় বেড়েছে এশীয়

অস্ট্রেলিয়ায় বেড়েছে এশীয়। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে।
অস্ট্রেলিয়ায় বেড়েছে এশীয়। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে।

বিশ্বে গত ১৬ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের মাধ্যমে উঠে আসছে এসব পরিবর্তনের তথ্য। সম্প্রতি ২০১৬ সালের আদমশুমারির তথ্য প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এতে এই সময়ে অস্ট্রেলিয়া জনসংখ্যা ও সংস্কৃতিতে যে কী ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তা ফুটে উঠেছে। পাঁচটি ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের তথ্য।

১. অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ার অভিবাসী বেশি

আধুনিক অস্ট্রেলিয়া অভিবাসীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনগোষ্ঠীর ৪৯ শতাংশ বিদেশি বা কমপক্ষে একজনের বাবা-মায়ের জন্ম বিদেশে। ২০০১ সালে বিদেশি বংশোদ্ভূত ইউরোপের নাগরিক বেশি ছিল অস্ট্রেলিয়ায়। ২০১৬ সালে এই চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। গত বছরের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকের ৪০ শতাংশের জন্ম এশিয়ায়, ৩৪ শতাংশের জন্ম ইউরোপে। ২০০১ সালে বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকের মধ্যে ২৪ শতাংশ ছিল এশিয়ার ও ৫২ শতাংশ ইউরোপের। যদিও অভিবাসীদের মধ্যে এখনো একক দেশ হিসেবে এগিয়ে যুক্তরাজ্য। এশিয়ার নাগরিকদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এখন চীন, ভারত, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার নাগরিক বেশি।

২. অধিকাংশ ধর্মীয় মত হলো ‘কোনো ধর্ম নয়’

২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, মোট জনগোষ্ঠীর সাড়ে ২৯ শতাংশ বলছে যে তাদের ‘কোনো ধর্মে নেই’। এই বিশ্বাস ২০০১ সালে ছিল ১৬ শতাংশ। দেশটিতে বর্তমানে জনসংখ্যার ২২ দশমিক ৬ শতাংশ ক্যাথলিক, ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ অ্যাংলো ও ২ দশমিক ৬ শতাংশ মুসলিম নাগরিক।

৩. ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে

২০০১ সালে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার আড়াই শতাংশ। ১৭ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

৪. শিগগিরই বৃহত্তম শহর হতে যাচ্ছে মেলবোর্ন

জনসংখ্যার দিক দিয়ে সিডনিকে টপকে বৃহত্তম শহর হতে যাচ্ছে মেলবোর্ন। বর্তমানে মেলবোর্নে বাস করে ৪৪ লাখ মানুষ। সিডনিতে বাস করে ৪৮ লাখ। বসবাসের জন্য সিডনির চেয়ে কম ব্যয়বহুল মেলবোর্ন। মেলবোর্নে গড় বাসাভাড়া ৩৫০ ডলার, যা সিডনিতে ৪৪০ ডলার।

৫. ইংরেজি ভাষার ব্যবহার কমেছে

বেশির ভাগ অস্ট্রেলীয় বাসায় এখন ইংরেজিতে কথা বলেন না। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের একজন অস্ট্রেলীয় ইংরেজিতে কথা বলেন না, যা প্রায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ। বহু মানুষ এখন বাড়িতে নিজেদের মধ্যে নিজস্ব ভাষায় কথা বলেন।