আফগানিস্তানে নারী সহকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতায় মাস্ক পরলেন পুরুষ উপস্থাপকেরা

আফগানিস্তানের টেলিভিশনের নারী উপস্থাপকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতে মুখে ঢেকেছেন পুরুষ উপস্থাপকেরা। #ফ্রিহারফেস প্রচারণার আওতায় তাঁরা এ কাজ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ান এসব তথ্য জানিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে আফগানিস্তানের প্রধান ধর্মীয় নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা একটি আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, আফগান নারীদের মুখসহ পুরো শরীর ঢেকে জনসমক্ষে বের হতে হবে। আর এ পোশাক হবে আফগানিস্তানের প্রথাগত বোরকার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। প্রকাশ্যে চলাফেরা কিংবা উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার সময় নারীদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার নির্দেশ জারি করেন তিনি।

গত সপ্তাহে টেলিভিশনের নারী উপস্থাপকদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার নির্দেশও জারি হয়। কিন্তু তোলো নিউজ, শামশাদ টিভি এবং ওয়ানটিভির নারী উপস্থাপকেরা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে গত শনিবার চেহারা খোলা রেখে উপস্থাপনা চালিয়ে যান। পরের দিনই তাঁরা মুখে ঢেকে টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হন।

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক উপস্থাপক দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, গত দুই দিন তিনি ও তাঁর অন্য পুরুষ সহকর্মীরা মাস্ক পরে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরে কাজ করা বিরক্তিকর। আমি যখন মাস্ক পরে কাজ করি, তখন মনে হয় কেউ যেন আমার গলা চেপে ধরেছে এবং আমি কথা বলতে পারছি না।

লিমা স্পেসালির বয়স ২৭। দেশটির ওয়ানটিভির একজন সংবাদ উপস্থাপক। তিনি গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘গত রোববার সকালে অফিসে তালেবানের সর্বশেষ ডিক্রির জারি খবর আমাকে দেওয়া হয়েছিল। দুজন তালেবান সদস্য আমাদের অফিসে এসে বললেন, নারী সঞ্চালক ও উপস্থাপকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে মুখ ঢেকে রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে।

আরও পড়ুন

এরপর আমরা অফিস মিটিং করেছি। তালেবানের আদেশ মেনে নিতে হয়েছিল। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে পুরুষ সহকর্মীদেরও মুখোশ পরতে হবে এবং নারী সহকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

লিমা স্পেসালি বলেন, ‘নয় মাসের তালেবান শাসনের সময় উপস্থাপককে পছন্দের রঙিন পোশাকগুলো পরতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমি হতাশ ও হতবাক। আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না। আমি অক্সিজেন পেতে পারি না। এর মধ্য আমাদের সঠিকভাবে শব্দ উচ্চারণ করতে হবে। মাস্ক পরে খবর পড়া খুব কঠিন।’