কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনায় তুরস্কের সহায়তা চেয়েছে তালেবান
আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় তুরস্কের সহায়তা চেয়েছে তালেবান। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আফগানিস্তান থেকে দেশটির সেনাসদস্যদের ফিরিয়ে নিতেও বলা হয়েছে তালেবানের পক্ষ থেকে। গতকাল বুধবার তুরস্কের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সেনাদের প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। ন্যাটো জোটের অন্যতম অংশীদার হিসেবে আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন তুরস্কের সেনারাও।
তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনায় তুরস্কের কাছে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে তালেবান। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশটি থেকে তুরস্কের সব সেনা সরিয়ে নিলে সেখানে সম্ভাব্য যে কোনো মিশন জটিল হয়ে উঠবে। বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব নিলে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনী ছাড়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করেন তিনি।
পরিচয় প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, তালেবানের সঙ্গে বিমানবন্দর প্রসঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। এসব বিষয়ে ৩১ আগস্টের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির আরেক কর্মকর্তা।
এদিকে কাবুল বিমানবন্দরের পরিচালনার কাজকে বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেছেন ওই কর্মকর্তাদের একজন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এ নিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলে আসছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার। তারা জানিয়েছে, অনুরোধ করা হলে তারা বিমানবন্দরে অবস্থান করবে। এমনকি কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনায় প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহায়তা করার প্রস্তাবও তালেবানের কাছে রেখেছিল দেশটি।
আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ পাবে তালেবান। তখন বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযাগ রাখার জন্য বিমানবন্দরটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা তালেবানের জন্য জরুরি হয়ে পড়বে। শুধু তা–ই নয়, দেশটিতে ত্রাণ সরবরাহ এবং এ–সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরটি।