গ্যাংস্টার এখন রাঁধুনি, গরিবদের নুডলস খাওয়ান তিনি!

আমূল পাল্টে গেছেন গ্যাংস্টার ইয়েন ওয়েই-শুন। বন্দুক-বোমা ছেড়ে হাতে নিয়েছেন খুন্তি-কড়াই। এখন দরিদ্র মানুষকে নুডলস রান্না করে খাওয়ান তিনি। ছবি: এএফপি
আমূল পাল্টে গেছেন গ্যাংস্টার ইয়েন ওয়েই-শুন। বন্দুক-বোমা ছেড়ে হাতে নিয়েছেন খুন্তি-কড়াই। এখন দরিদ্র মানুষকে নুডলস রান্না করে খাওয়ান তিনি। ছবি: এএফপি

জীবনের বেশির ভাগ সময় আইনের বিরুদ্ধ পক্ষে ছিলেন ইয়েন ওয়েই-শুন। ছিলেন গ্যাংস্টার। ৪০ বছর বয়সে এসে আমূল পাল্টে গেছেন ইয়েন। বন্দুক-বোমা ছেড়ে হাতে নিয়েছেন খুন্তি-কড়াই। এখন দরিদ্র মানুষকে নুডলস রান্না করে খাওয়ান তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইয়েন ওয়েই-শুনের পরিবার প্রায় এক দশক ধরে একটি নুডলসের দোকান চালাচ্ছে। নিউ তাইপেই সিটির একটি ঐতিহ্যবাহী বাজারে দোকানটির অবস্থান। গুন্ডাগিরি ছেড়ে ইয়েনও এখন সেই দোকানে কাজ করছেন। যেসব মানুষের খাবার কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের বিনা পয়সায় রান্না করা নুডলস খাওয়ানো হয় এই দোকানে।

এরই মধ্যে ইয়েনের এমন কাজের খবর স্থানীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবে। লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন এই ভিডিও।

ইয়েন ওয়েই-শুনের পরিবার প্রায় এক দশক ধরে একটি নুডলসের দোকান চালাচ্ছে। নিউ তাইপেই সিটির একটি ঐতিহ্যবাহী বাজারে দোকানটির অবস্থান। ছবি: এএফপি
ইয়েন ওয়েই-শুনের পরিবার প্রায় এক দশক ধরে একটি নুডলসের দোকান চালাচ্ছে। নিউ তাইপেই সিটির একটি ঐতিহ্যবাহী বাজারে দোকানটির অবস্থান। ছবি: এএফপি

ইয়েন ওয়েই-শুন মাত্র ১৫ বছর বয়সে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। মারামারি করে এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত করে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ডও পেয়েছিলেন তিনি। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও শোধরাননি ইয়েন। অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে আবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে রেহাই পেয়ে যান ইয়েন। এরপরই আমূল বদলে ফেলেন নিজেকে।

এএফপিকে ইয়েন বলেন, অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার বিষয়টিকে স্বর্গ থেকে পাওয়া দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন তিনি। এই সাবেক গ্যাংস্টার বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম, পরিবার ও আমার স্বাধীনতাকে মূল্য দেওয়া উচিত।’

ইয়েনের দোকানে সাধারণ খদ্দেরদের কাছে প্রতি বাটি নুডলস ৮০ তাইওয়ানিজ ডলারে বিক্রি করা হয়। তবে যাঁদের কেনার সামর্থ্য নেই, তাঁদের জন্য আরও ৭৫ ডলার করে দান করতে হয়। ইয়েন জানান, দাতাদের দেওয়া অর্থের সঙ্গে তিনি নিজেও কিছু যোগ করেন। এভাবেই বিনা মূল্যে নুডলস খাওয়ানোর খরচ জোগান তিনি।

মূলত বয়স্ক ব্যক্তি ও বেকার তরুণেরাই ইয়েনের দোকানে বিনা পয়সায় খাবার খেতে আসেন। এর পাশাপাশি অন্যান্য দাতব্য কাজও করেন ইয়েন। ছবি: এএফপি
মূলত বয়স্ক ব্যক্তি ও বেকার তরুণেরাই ইয়েনের দোকানে বিনা পয়সায় খাবার খেতে আসেন। এর পাশাপাশি অন্যান্য দাতব্য কাজও করেন ইয়েন। ছবি: এএফপি

প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ বাটি নুডলস বিনা মূল্যে খাওয়ান ইয়েন। চার বছর আগে পারিবারিক নুডলসের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪০ হাজার বাটি নুডলস বিনা মূল্যে বিতরণ করেছেন।

ইয়েন আরও জানান, মূলত বয়স্ক ব্যক্তি ও বেকার তরুণেরাই তাঁর দোকানে বিনা মূল্যে খাবার খেতে আসেন। এর পাশাপাশি অন্যান্য দাতব্য কাজও করেন ইয়েন। নিয়মিত কারাগারে গিয়ে কয়েদিদের নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান তিনি।