‘চোখ’ থাকবে কপালে

চলার পথে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় তৃতীয় চোখ
ছবি: রয়টার্স

কিছু লোক আছেন, যাঁদের চোখ সারাক্ষণই স্মার্টফোনের পর্দায় আটকে থাকে। বাড়ি থেকে অফিস, গণপরিবহন থেকে ফুটপাত—সবখানেই স্মার্টফোনে চোখ আটকে রাখতে পছন্দ করেন তাঁরা। এ জন্য দুর্ঘটনাও কম হয় না। সমস্যাটির সমাধানে এগিয়ে এসেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একজন শিল্পনকশাবিদ। তিনি এমন একটি যন্ত্রের নকশা করেছেন, যেটি দেখতে অবিকল মানুষের চোখের মতো। এটিকে ‘তৃতীয় চোখ’ বলা হচ্ছে। যন্ত্রটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করবে।

সিউলভিত্তিক শিল্পনকশাবিদ পায়েং মিন–ওক রোবটিক একটি চোখের নকশা করেছেন। যাঁরা চলার পথে হাঁটতে হাঁটতে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, এ চোখ তাঁদের জন্য। দুটি চোখ স্মার্টফোনের পর্দায় আটকে থাকলেও তৃতীয় এ চোখ বিপদ থেকে বাঁচাবে তাঁকে।

হাঁটার সময় রোবটিক এ চোখ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কপালে আটকানো থাকবে। চলার পথে ব্যবহারকারীর সামনে এক কিংবা দুই মিটারের মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা এলে এ রোবটিক চোখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাঠাবে। শব্দ করবে। এ শব্দ শুনে সতর্ক হতে পারবেন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী। ফলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে তৃতীয় চোখের কল্যাণে রক্ষা পাবেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের রয়েল কলেজ অব আর্ট ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন পায়েং মিন-ওক। বিষয় ছিল ইনোভেশন ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারিং। পায়েং বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের দুই চোখ স্মার্টফোনের পর্দা থেকে সরিয়ে আনতে না পারি, তাহলে আগামী দিনগুলোয় চলার পথে আমাদের অতিরিক্ত একটি চোখের দরকার পড়বে।’ মূলত এ ভাবনা থেকেই তিনি ডিভাইসটি তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের আশপাশের এলাকায় চলার পথে এ ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে মানুষের কপালে ঝুলতে যাওয়া তৃতীয় চোখে পায়েং একটি সেন্সর যুক্ত করেছেন। যা চলার পথে ওই মানুষের সামনে আসা যেকোনো বস্তুগত প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করতে সক্ষম। রয়েছে মাইক্রোকন্ট্রোলার ও ব্যাটারি। তবে এটিকে ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ বলছেন পায়েং। তাঁর মতে, এ ডিভাইস সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়।