জান্তা রুখতে সুন্দরীর হাতে অস্ত্র

মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে রুখতে বিদ্রোহী বাহিনীতে যোগ দিয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন দেশটির সাবেক মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল। মিয়ানামারের সাবেক বিউটি কুইন হতার হতেত হতেত তাঁর টুইটার পেজে অস্ত্রসহ ছবি পোস্ট করে বলেন, ‘বিপ্লব আপেল না যে পাকার পর এটি ঝরে পড়বে। আপনাকে এটি পাড়তে হবে—চে গুয়েভারা। আমরা অবশ্যই জিতব।’

২০১৩ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সুন্দরী প্রতিযোগিতায় মিয়ানমারের হয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করেন হতার হতেত হতেত
ছবি: এএফপি

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নেতা সু চিকে আটকের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পঙ্গু হয়ে পড়ে দেশটির অর্থনীতি।

হতার হতেত হতেত ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সুন্দরী প্রতিযোগিতায় মিয়ানমারের হয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করেন।

৩২ বছর বয়সী হতার হতেত বর্তমানে ব্যায়ামের শিক্ষক। সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক পেজে অস্ত্র হাতে কালো রঙের যুদ্ধের পোশাকে ছবি পোস্ট করেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। অস্ত্র হাতে তুলে, কলম, কি-বোর্ড বা গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে অর্থ দান করে, যেভাবেই হোক না কেন, বিপ্লব সফল করতে প্রত্যেককে অবশ্যই কিছু করা উচিত।’

জাতিগত বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মিয়ানমারের সাবেক বিউটি কুইন হতার হতেত হতেত
ছবি: টুইটার থেকে সংগৃহীত

সীমান্তঘেঁষা জঙ্গল থেকে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে হতার হতেত হতেত লেখেন, ‘আমি যতটা সম্ভব প্রতিরোধ করব। আমি সবকিছু ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। এমনকি নিজের জীবন দিতেও তৈরি আমি।’

এর আগে সুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে আরেক মিস গ্র্যান্ড মিয়ানমার হান লে তাঁর দেশের সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সহিংসতার শিকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান তিনি। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ২০২০ অনুষ্ঠানে হান বলেন, ‘আজ আমার দেশ মিয়ানমারে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। দয়া করে মিয়ানমারকে সহায়তা করুন। আমাদের এখনই জরুরি আন্তর্জাতিক সহায়তা দরকার।’

বিপ্লব সফল করতে নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত হতার হতেত হতেত
ছবি: টুইটার থেকে সংগৃহীত

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৭৮০ জন নিহত হয়েছেন। জান্তা সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়ছে। গ্রেপ্তার হচ্ছেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা সমর্থন করা অনেকে। বেশ কজন সাংবাদিককেও আটক করে তারা।

মিয়ানমারের গ্রামগুলো থেকে হাজার হাজার বাসিন্দা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পালিয়ে গেছেন। আর থেকে যাওয়া লোকজনের বেশির ভাগই সুচির দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

সম্প্রতি সশস্ত্র জাতিগত বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর হামলা শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামলাতে তাদের ওপর বিমান হামলা করেছে সামরিক বাহিনী।

আরও পড়ুন