ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষের ৪০ বছর স্মরণে কুচকাওয়াজ

রক্তক্ষয়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষের ৪০ বছর পূর্তি হলো গতকাল বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে গতকাল হো চি মিন সিটির বিভিন্ন সড়কে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। খবর বিবিসির।
১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়। ওই দিন তখনকার মার্কিন মদদপুষ্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সায়গন দখল করে উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট বাহিনী। রাজধানী দখলের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হয়।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রাণ হারায় অন্তত ৩০ লাখ ভিয়েতনামি। এ ছাড়া এতে ৫৮ হাজার মার্কিন সেনাও নিহত হয়। যুদ্ধ শেষের পরের বছর উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের ঐক্য-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ভিয়েতনামের সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুগুয়েন কুয়োক কান দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বলেন, ৩০ এপ্রিল ভিয়েতনামের জনগণের জন্য একটি মোড় পরিবর্তনকারী দিন।
৪০ বছর আগে উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনী সায়গনে ঢুকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ফটক ধ্বংস করে ফেলে। এর মাধ্যমেই মার্কিন মদদপুষ্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামের পরাজয় নিশ্চিত হয়।
ভিয়েতনাম যুদ্ধই পশ্চিমা গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পাওয়া প্রথম যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে তীব্র মতভিন্নতা দেখা দেয়। দেশটি যুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে ভাগ হয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী নগুয়েন তান দুং ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ‘বর্বরোচিত অপরাধ’ করার অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতা প্রাসাদের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ওই যুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমাজতন্ত্রের বিস্তার ঠেকানোর মার্কিন চেষ্টার সমালোচনা করেন। ভিয়েতনামের পুনরেকত্রীকরণকে স্বাগত জানিয়ে কমিউনিস্টদের বিজয়কে দেশপ্রেমের বিজয় হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। ১৯৫৪ সালে কমিউনিস্ট উত্তর ও মার্কিন মদদপুষ্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামে ভাগ হয়ে গিয়েছিল দেশটি।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের কিছু বিষয় এখনো দৃশ্যমান। এর মধ্যে আছে যুদ্ধের পর অনেক বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম নেওয়া। ভিয়েতনামের অভিযোগ, জঙ্গলের গাছের পাতা ঝরিয়ে ফেলার জন্য মার্কিন সেনারা এজেন্ট অরেঞ্জ নামের যে আগাছানাশক ব্যবহার করেছিল, তার প্রতিক্রিয়াই ওই বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম।