রাজা ভুমিবল এত জনপ্রিয় কেন?

রাজা ভূমিবলের মৃত্যুর খবরে কাঁদছেন এক নারী। ছবিটি গতকাল বৃহস্পতিবারের। ছবি: রয়টার্স
রাজা ভূমিবলের মৃত্যুর খবরে কাঁদছেন এক নারী। ছবিটি গতকাল বৃহস্পতিবারের। ছবি: রয়টার্স

থাইল্যান্ডের অনেক নাগরিকের কাছে সদ্য প্রয়াত রাজা ভুমিবল আদুলাদেজ শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। রাজার প্রতি তাঁদের ভক্তি অপরিসীম। বলা হয়, বিশ্বে তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সিংহাসনে থাকা রাজা। ৭০ বছর ধরে রাজার আসনে ছিলেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ৮৮ বছর বয়সে থাই রাজা ভুমিবল মারা যাওয়ার পর থেকে তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে সবখানে। তাঁর এই অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারণগুলো তুলে ধরেছে এএফপি।

থাই নাগরিকদের মধ্যে প্রয়াত রাজার জনপ্রিয়তাকে কী ইউরোপের রাজপরিবারের প্রতি সেসব দেশের নাগরিকদের অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করা যায়?

সদ্য প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুলাদেজ। ছবি : এএফপি
সদ্য প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুলাদেজ। ছবি : এএফপি


জবাবে বলা হয়েছে, থাই নাগরিকদের মধ্যে এটা প্রচলিত রয়েছে যে রাজার সঙ্গে তাদের গভীর আধ্যাত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। রাজাকে তারা দেখে আসছে জাতির যত্নশীল এক প্রশান্ত পিতা হিসেবে, যিনি বৌদ্ধধর্মের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতিভূ। বিনয়, মানবতাবোধ ও গরিব লোকজনকে সহায়তায় জীবনভর অঙ্গীকার রক্ষা—এসব গুণাবলির জন্য রাজাকে তারা সত্যিকারেই ভালোবাসে।
রাজার প্রতি থাই জনগণের এই ভালোবাসা এমন এক ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি করেছে যে যানবাহন, অফিস-আদালত এবং দোকানপাটে রাজার ছবি টাঙিয়ে রাখা হয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সময় পর্দায় তাঁর ছবি ভেসে উঠলে সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান দেখায়।
রাজার সাত দশকের শাসনামলে দেশটিতে বারবার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঘটনা ঘটেছে। সে ক্ষেত্রে রাজাকে কেন কেউ দোষারোপ করেনি? এ প্রশ্নও উঠেছে।

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, ভূমিবল সিংহাসনে থাকার সময় এক ডজনেরও বেশি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে বা ঘটানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু অনেক থাই নাগরিক প্রয়াত রাজাকে এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী বলে মনে করেনি। বরং বিপদের সময় তাঁকে বহু আকাঙ্ক্ষিত এমন এক ব্যক্তি মনে করেছে, যিনি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সতর্কতার সঙ্গে তাঁর শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছেন। বিশেষ করে ১৯৯২ সালের একটি ঘটনায় রাজার হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রশংসিত হয়। ওই সময় সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের আদেশ দেওয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেনারেল সুচিন্দা ক্রাপ্রায়ুনকে প্রাসাদে ডেকে এনে রাজা টেলিভিশনের সামনে ভর্ৎসনা করেন। ওই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তবে আরও কিছু রাজনৈতিক সংকটের সময় রাজা কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। তাঁর শাসনামলে ঘটা বেশির ভাগ সফল সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

অনেক থাই নাগরিক বিশ্বাস করেন, রাজা দরিদ্রদের সহায়তা করার জন্য জীবনভর নিয়োজিত ছিলেন। দারিদ্র্য নির্মূলে তিনি অজস্র রাজকীয় প্রকল্পে অনুদান দিয়েছেন।

যৌবনে রাজা ভূমিবল অসাধারণ কিছু গুণাব​লি ও দক্ষতার জন্য প্রশংসিত ছিলেন। তিনি সফল জ্যাজ শিল্পী ছিলেন। স্যাক্সোফোন বাজাতেন। সুরকার ও আলোকচিত্রী ছিলেন। কিংবদন্তি জ্যাজ শিল্পী বেনি গুডম্যানের সঙ্গে স্যাক্সোফোন বাজিয়ে ভুমিবল ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় উপদ্বীপ প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিজের প্রিয় কুকুরকে নিয়ে বই লিখেও তিনি সফল হন।