হেরাত এখন ‘ভুতুড়ে নগরী’
আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাত। সেখানে ছয় লাখ লোকের বাস। গত ১২ আগস্ট শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর থেকে সেখানে কেমন অবস্থা চলে আসছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে। সেখানকার একজন সাংবাদিক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, বর্তমানে হেরাত একটি ভুতুড়ে নগরী। বাইরে নারীরা খুব কমই যাতায়াত করছেন। তালেবান যোদ্ধারা বন্দুক নিয়ে টহল দিচ্ছেন, যা মানুষের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, সেখানকার নারীরা খুব ভয়ের মধ্যে আছেন।
নিজের পরিচয় গোপন রাখতে সাঈদ নাম ধারণ করে সিভিল সার্ভিসের এক চাকুরে জানিয়েছেন, ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাঁদের অফিসে যেতে বলা হয়েছে। পথে তালেবান যোদ্ধারা তাঁদের জেরা করেছেন। তাঁদের কাছে অফিসের টাকার কথা জানতে চাওয়া হয়েছে। ট্রাফিকে থামলে তাঁর গাড়িতে চাবুক দিয়ে আঘাত করে সামনে যেতে বলে একজন তালেবান। সাঈদ বলেন, ‘২০ বছর আগে হেরাতে এমন দৃশ্য দেখেছেন। আমি চাই না আমার সন্তানেরা তালেবানের পতাকাতলে বড় হোক।’
একজন নারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসতে তালেবান যোদ্ধারা তাঁকে কোনো বাধা দেয়নি। হেরাত দখলের পরপরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর হাসপাতালের সামনে প্রায় ১০০ যোদ্ধা দাঁড়িয়ে ছিল। দেখে মনে হয়েছে হাসপাতালটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র। পরে অবশ্য এই সংখ্যা ২০ জনে নেমে আসে। তালেবান ক্ষমতায় আসার পরপরই নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ হিজাবের নকশা করা হয়। তালেবানরা সার্বক্ষণিক এ হিজাব পরার বিষয়টি নজরধারী করে। হাসপাতালে কোনো নারী স্বাস্থ্যকর্মী যাতে কোনো পুরুষের সঙ্গে না মেশে, তাও পর্যবেক্ষণ করে সেখানের দায়িত্বে থাকা তালেবান যোদ্ধারা।
হেরাতের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, টাকা তুলতে হেরাতের ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। বিদ্যালয়গুলোও চালু হয়েছে। তবে ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে শ্রেণিকক্ষে গেলেও তাদের অবশ্যই আলাদা আলাদা বসতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক পরতে হচ্ছে ইসলামিক পোশাক। আফগানিস্তানের সবচেয়ে খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় হেরাত ইউনিভার্সিটি এখনো বন্ধ রয়েছে।