সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ পাসপোর্টের শীর্ষ দুই স্থানে এশিয়ার তিন দেশ

ভিসা নেওয়ার ঝামেলা ছাড়া ভ্রমণের মজাই আলাদা। তবে এমন সুবিধা পেতে হাতে থাকতে হবে শক্তিশালী পাসপোর্ট। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি ‘পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬’-এ সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্যের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি তালিকাটি প্রকাশ করা হয়।

কোন দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে কয়টা দেশে যাওয়া যায়, এর ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী পাসপোর্টের এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য।

এ বছরও তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় নাম থাকা প্রথম তিন দেশই এশিয়ার। তালিকার কোনো কোনো স্থানে একাধিক দেশের নাম এসেছে। তালিকায় এ বছর (২০২৬ সাল) শীর্ষ ১০ স্থানে কোন কোন দেশ জায়গা পেল, দেখে নেওয়া যাক:

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট
ছবি: এএফপি

শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় এক নম্বরে সিঙ্গাপুর। গত বছরও দেশটি এক নম্বরে ছিল। সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের ১৯২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা পান।

তবে ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা বিনা বাধায় পাকিস্তান, মৌরিতানিয়া, সোমালিয়া ও বলিভিয়ায় প্রবেশ করতে পারলেও এ বছর এ সুবিধা হারিয়েছেন। আর এ বছর পাপুয়া নিউগিনিতে ভিসামুক্ত প্রবেশসুবিধা পেয়েছেন।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাসপোর্ট
ছবি: রেডিট

তালিকায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। এ দুই দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৮টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশসুবিধা পান। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শক্তি, শক্তিশালী অর্থনীতি ও বিশ্বস্ততার কারণে এ দুই দেশের পাসপোর্ট এ সুবিধা পায়।
এ অবস্থান এশিয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাব, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার কিছু অংশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা চুক্তির প্রতিফলন।

ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড

শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ইউরোপের পাঁচটি দেশ যৌথভাবে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। সেগুলো হলো ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৬টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশসুবিধা পান।

শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অংশীদার হওয়ার মতো বিষয়গুলো এসব দেশের এ অবস্থান বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।

অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে

শেনজেনভুক্ত অঞ্চল
ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

তালিকায় চার নম্বরে আছে ইউরোপের ১০ দেশ—অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে।

দেশগুলোর এ অবস্থান মূলত শেনজেন এলাকায় তাদের সম্মিলিত শক্তিকে প্রতিফলিত করছে। দেশগুলোর নাগরিকেরা ১৮৫টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশসুবিধা পান।

হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট
ছবি: রয়টার্স

তালিকায় পাঁচ নম্বরে জায়গা পাওয়া দেশগুলোর অবস্থান বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়ার সঙ্গে পাঁচ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৪টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশসুবিধা পাবেন।

এ বছর বেশি চমক দেখিয়েছে আরব আমিরাত। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০ বছরের ইতিহাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত এ বছর নিজেদের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটি নিজেদের পাসপোর্টে ১৪৯টি ভিসামুক্ত গন্তব্য যুক্ত করেছে এবং তালিকায় ৫৭ ধাপ এগিয়েছে।

এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে আরব আমিরাতের স্থিতিশীল কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ভিসা সহজীকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট দেশটি নিজেদের বৈশ্বিক প্রভাব, কৌশলগত অংশীদারত্ব ও বাণিজ্য, ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, মাল্টা, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড

এ ছয়টি দেশ যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থান ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, মাল্টা, নিউজিল্যান্ড ও পোল্যান্ডের পাসপোর্টধারীরা ১৮৩টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা পান।

এ ছয় দেশের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ছাড়া অন্যরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও শেনজেন সদস্যভুক্ত। বৈশ্বিক খ্যাতি, স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে নিউজিল্যান্ড এ তালিকায় নিজেদের অবস্থান বিশেষভাবে মজবুত করেছে।

অস্ট্রেলিয়া, লাটভিয়া, লিচেনস্টাইন, যুক্তরাজ্য

এ চারটি দেশ যৌথভাবে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, লাটভিয়া, লিচেনস্টাইন ও যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টধারীরা ১৮২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশসুবিধা পান।

সারা বিশ্বে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়লেও অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক ভ্রমণসুবিধায় নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে লাটভিয়া ও লিচেনস্টাইন ইউরোপীয় সংহতি ও আঞ্চলিক চুক্তির সুফল পাচ্ছে।

কানাডা, লিথুয়ানিয়া, আইসল্যান্ড

কানাডা, লিথুয়ানিয়া ও আইসল্যান্ড যৌথভাবে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। দেশগুলোর নাগরিকেরা ১৮১টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশসুবিধা পান।

স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে কানাডার পাসপোর্ট এখনো অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত। আর আইসল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া শেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণের সুবিধা ও ইউরোপজুড়ে চলাচলের সুযোগ থেকে উপকৃত হচ্ছে।

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

এশিয়ার আরেক দেশ মালয়েশিয়া নবম অবস্থানে রয়েছে। এ দেশের নাগরিকেরা ১৮০টি দেশে ভিসা ছাড়াই অথবা অন-অ্যারাইভাল ভিসার মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারেন।

সিঙ্গাপুরের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়ার পাসপোর্টই সবচেয়ে শক্তিশালী। এ অবস্থান দেশটির ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, আঞ্চলিক প্রভাব ও দীর্ঘদিনের ভ্রমণচুক্তির প্রতিফলন।

১০

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট
ছবি: রয়টার্স

শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় দশম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নাগরিকেরা ১৭৯টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের ভিসানীতি কঠোর করার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টের অবস্থান কিছুটা নেমেছে।