default-image

চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুরদের প্রতি সে দেশের সরকারের আচরণের বিষয়ে কোনো সমালোচনার মধ্যে নেই আফ্রিকান দেশগুলো। এমনকি সম্প্রতি কিছু আফ্রিকান কূটনীতিক বেইজিংয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জিনজিয়াং অঞ্চলে চীনা নীতির প্রশংসা পর্যন্ত করেছেন। মানবাধিকার প্রশ্নে আফ্রিকান দেশগুলো কেন চীনের পক্ষে, তা খতিয়ে দেখেছে বিবিসি অনলাইন।

জিনজিয়াংয়ের আটককেন্দ্রে উইঘুর সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ১০ লাখ সদস্যকে চীনা কর্তৃপক্ষ আটক করে রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এই আটক শিবিরে জোরপূর্বক কাজ করানো, বন্ধ্যাকরণ, নির্যাতন, ধর্ষণসহ গণহত্যার মতো অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ চীনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

চীন সরকারের ভাষ্য, জিনজিয়াংয়ের শিবিরগুলো ‘পুনঃশিক্ষণ’ কেন্দ্র। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই শিবিরে লোকজনকে পুনঃশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে পশ্চিমারা উইঘুরসহ চীনের বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে বেশ সরব। উইঘুর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চীন সরকার ‘গণহত্যার’ মতো অপরাধ করছে বলে প্রকাশ্যে বলে আসছে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ।

পশ্চিমা দেশগুলোর এমন অভিযোগের বিপরীত চিত্র সম্প্রতি দেখা গেল আফ্রিকান দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ায়। গত মার্চে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে বুরকিনা ফাসোর রাষ্ট্রদূত আদামা কমপাওর বলেন, জিনজিয়াং ইস্যুতে কিছু পশ্চিমা শক্তি ‘হাইপ’ তৈরি করছে। তারা আসলে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য চীনের ওপর অনর্থক আক্রমণ করছে।

একই অনুষ্ঠানে সুদান ও কঙ্গোর রাষ্ট্রদূতও অংশ নেন। কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল ওউসা বলেন, জিনজিয়াং অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী যে পদক্ষেপ চীন সরকার নিয়েছে, তা তিনি সমর্থন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে জিনজিয়াংয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কথিত যে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে, তার প্রশংসা করেন কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বৈশ্বিকভাবে উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আফ্রিকার নীরবতার একটি উদাহরণ বেইজিংয়ের ওই জমায়েত।

আফ্রিকার এই ভূমিকা প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আফ্রিকা অঞ্চলের অ্যাডভোকেসি পরিচালক ক্যারিন কানেজা নান্টুলিয়া বলেন, এটা রুটিন কূটনীতি হতে পারে। কিন্তু মানবাধিকার প্রশ্নে বেইজিংয়ের দমন–পীড়ন নিয়ে আফ্রিকান সরকারগুলোর নিশ্চুপ থাকার যে প্রবণতা, তার বাস্তবিক প্রভাব রয়েছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউটের অনাবাসিক ফেলো এজেভিওম ওটোবো চীন প্রশ্নে আফ্রিকান নেতাদের এমন মনোভাবের তিনটি কারণ সামনে এনেছেন। তাঁর ভাষ্য, আফ্রিকান নেতাদের সঙ্গে চীনের মধ্যে কিছু সাধারণ বোঝাপড়া আছে। এ বোঝাপড়ার ক্ষেত্র মূলত তিনটি। এগুলো হলো মানবাধিকার, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেখা গেছে, মানবাধিকারের প্রসঙ্গ এলে চীনের ব্যাপারে আফ্রিকা যে অবস্থান নেয়, তা পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যায়। যেমন ২০২০ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে হংকংয়ে চীনের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন বিষয়ে যে ভোটাভুটি হয়, তাতে ২৫টি আফ্রিকান দেন বেইজিংয়ের পক্ষ নেয়।

এমন ঘটনা আরও আছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্য, বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় জলাঞ্জলি দিয়ে আফ্রিকান নেতারা চীনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার দিকটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
চায়না আফ্রিকা প্রজেক্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা এরিক ওল্যান্ডার বলেন, আফ্রিকান দেশগুলো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যকভাবে এমন অবস্থানে নেই যে তারা চীনকে নাখোশ করতে পারে। কারণ, তারা বেইজিংয়ের ওপর উচ্চমাত্রায় নির্ভরশীল।

অবশ্য আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও গত শতকের সত্তরের দশকে জাতিসংঘে আবার যোগ দিতে আফ্রিকান দেশগুলো চীনকে সহায়তা করেছিল। এ প্রসঙ্গে কেনিয়াভিত্তিক চায়না-আফ্রিকা বিশ্লেষক ক্লিফ এমবোয়া বলেন, তারপর থেকে সম্পর্কটি কেবল দৃঢ় হয়েছে।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন