৫০ বছরে কখনো হাসপাতালে যাননি শতবর্ষী নারী

জিন বাওলিংছবি: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চীনের একটি ছোট্ট গ্রামে বাস করেন ১০২ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর জীবনযাপনের গল্প সম্প্রতি ইন্টারনেটে আলোড়ন তুলেছে, বহু মানুষের মন জয় করেছে।

ওই নারীর নাম জিন বাওলিং। তিনি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌয়ের একটি গ্রামে বসবাস করেন। তাঁর ছেলে, ছেলের বউ এবং নাতি–নাতনিরা নিয়মিত তাঁকে দেখতে যান।

হাসিখুশি স্বভাবের জিন গ্রামে বেশ জনপ্রিয়। গ্রামের বাসিন্দারা সবাই শতবর্ষী এই নারীকে ভালোবাসেন, আদর করে ‘ওল্ড বেবি’ ডাকেন।

তাইঝৌ ইভিনিং নিউজের খবর অনুযায়ী, শত বছর বয়স হলেও জিন এখনো খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এবং শারীরিকভাবে সুস্থ। গত ৫০ বছরে তাঁকে কখনো হাসপাতালে যেতে হয়নি।

জিন প্রতিদিন সকাল ৯টায় ঘুম থেকে ওঠেন, হাতমুখ ধুয়ে বাগানে কিছুক্ষণ রোদ পোহান। সন্ধ্যা ৭টার ভেতর তিনি রাতের খাবার শেষ করে ঘুমাতে চলে যান। এর মাঝে দিনের বেলাতেও তিনি খানিকটা ঘুমিয়ে নেন।

তাঁর ছেলে হু হুয়ামেই বলেন, তিনি দিনে ১৫ ঘণ্টাও ঘুমিয়ে থাকতে পারেন।

জিন তাঁর খাবারের বিষয়েও খুব সচেতন। তাঁর সকালের নাশতায় থাকে ডাম্পলিং ও বান। দুপুর ও রাতের খাবারে সাধারণত নুডলস বা ভাত থাকে, মাংস তাঁর খুবই প্রিয়, তিনি প্রতিদিন মাংস খান। তাঁকে প্রতি বেলার খাবার একটি বড় বাটিতে পরিবেশন করা হয়।

প্রধান খাবারের পাশাপাশি জিন নাশতায় কেক, রুটি এবং বাদামি চিনি ও লাল খেজুর দিয়ে বানানো চা খান।

এ ছাড়া জিন দিনে তিনটি কমলা এবং দুটো ডিম খান। তবে তিনি সবজি খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না। নিয়মিত তিনি রাইস ওয়াইন পান করেন।

হাঁটাচলা করতে জিনের অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হয়। তবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি এখনো তীক্ষ্ণ। তিনি এখনো মোজা বুনতে পারেন, জুতা মেরামত করতে পারেন।

জিনের ছেলে মায়ের সুস্বাস্থ্যের পেছনে তাঁর সব সময় হাসিখুশি থাকার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

হু বলেন, ‘তিনি কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া করেন না। যদি দেখেন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তিনি সব ভুলে যান।’

হু সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেন, তাঁর মা একজন সহজ–সরল গ্রামীণ গৃহিণী, যিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া, পরিবারের শান্তি ও সুখ। তিনি চান তাঁর পরিবার সব সময় সুখে–শান্তিতে বসবাস করুক।