এ মহড়ায় চীনের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। মহড়ার আকাশসীমা তুলনামূলক ছোট। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর এ অঞ্চলে চীনের সবচেয়ে বৃহত্তম মহড়ার কারণে উড়োজাহাজ চলাচলে এই বিঘ্ন ঘটছে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বড় ধরনের সামরিক মহড়া চলাকালে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া এবং উড়োজাহাজের রুট পরিবর্তন সারা বিশ্বে নিয়মিত ঘটে থাকে।

তবে এ পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। কারণ, চীনের এই মহড়া তাইওয়ানের দাবিকৃত ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিলোমিটার) আঞ্চলিক জলসীমাকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। বিষয়টিকে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে চ্যালেঞ্জ এবং দেশটির সমুদ্র ও আকাশসীমা অবরোধ করার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন।

কোরিয়ান এয়ারলাইনস ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস মহড়ার কারণে আজ শুক্রবার তাইপে যাওয়া-আসার ফ্লাইট বাতিলের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোরিয়ান এয়ারলাইনস শনিবারের ফ্লাইটও বাতিল করতে যাচ্ছে আর বিলম্বিত করতে যাচ্ছে রোববারের ফ্লাইটগুলোও।

হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ ও ফিলিপাইন এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইটগুলো তাইওয়ানের চারপাশে নির্ধারিত আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে। এতে কিছু ফ্লাইটের গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে। ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা ওই আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে দেশটির উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে।

তবে জাপানের এএনএ হোল্ডিংস ইনক (৯২০২.টি) এবং জাপান এয়ারলাইনস কো. লিমিটেড (৯২০১.টি)–এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাইপে স্বাভাবিক সময়ের মতো ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে তারা যেসব এলাকায় মহড়া চলছে, সেসব এলাকার আকাশসীমা এড়িয়ে যাচ্ছে। হংকং ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়াগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও একইভাবে চলাচল করছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং পরিষেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা যায়, তাইওয়ানের বিমান সংস্থা চায়না এয়ারলাইনস ও ইভিএ এয়ারলাইনস শুক্রবার সকাল নাগাদ দ্বীপটিতে চলাচল অব্যাহত রেখেছিল। কার্গো পরিবহন ফেডএক্স করপ ও ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস ফ্লাইট চালু রাখলেও মহড়ার অঞ্চল এড়িয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার সকালে তাইপের পথে এমিরেটস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস হোল্ডিং ইনক ও টার্কিশ এয়ারলাইনসেরও ফ্লাইট চলাচল করেছে বলেও ফ্লাইটরাডার২৪-এ দেখা যায়।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন