যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি কয়েল গান
ছবি: মার্কিন নৌবাহিনীর সৌজন্যে

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘কয়েল গান’ নিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে চীনের নৌবাহিনী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই অস্ত্র নিয়ে কাজ করছেন চীনের দ্য নেভাল ইউনির্ভাসিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং। তবে কবে নাগাদ এটি সামরিক বাহিনীতে ব্যবহার করা হবে, তা জানানো হয়নি।

কয়েল গান হলো তড়িৎ–চৌম্বকীয় শক্তির মাধ্যমে গোলা বা অন্য কিছু ছুড়ে দেওয়ার প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে অতি দ্রুতগতিতে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যায়। চীনে এই অস্ত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো পরীক্ষা চালিয়ে তাঁদের কয়েল গান থেকে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতিতে ১২৪ কেজি ওজনের একটি গোলা ছোড়া হয়েছে।

এ তথ্য সত্যি হলে এটি কয়েল গানে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভারী গোলা। এর আগে ১২০ মিলিমিটার ক্যালিবারের একটি কয়েল গানের পরীক্ষা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্যান্ডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ। সেটি থেকে ১৮ কেজি ওজনের গোলা ছোড়া যায়। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও কয়েকটি কয়েল গান আছে। তবে সেগুলো থেকে মাত্র কয়েক গ্রাম ওজনের গোলা ছোড়া যায়।

নেভাল ইউনির্ভাসিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে দল কয়েল গান নিয়ে কাজ করছে, তার প্রধান গুয়ান জিয়াওকুন বলেন, সাধারণ গোলার তুলনায় এই অস্ত্রের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন এগুলো অত্যধিক গতিতে ছোড়া যায়, কম সময় লাগে এবং খরচও কম। গোলার পাশাপাশি এটি উচ্চগতি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে এবং পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর চেয়েও শক্তিশালী একটি কয়েল গান নিয়ে চীনে কাজ চলছে বলে গত জুনে জানিয়েছিলেন দেশটির সামরিক বাহিনীর তড়িৎ–চৌম্বকীয় উৎক্ষেপণ প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী মা ওয়েইমিং। তিনি বলেন, অস্ত্রটি দিয়ে ঘণ্টায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটার গতিতে এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে গোলা ছোড়া যাবে।