দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছোট শহর চংকিংয়ে ওই রোগী শনাক্ত হন। করোনো সংক্রমণ শনাক্তের পর থেকে চীনে দেশের বাইরে থেকে কেউ গেলেই কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। তবে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বিদেশি, নাকি চীনা নাগরিক, এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

জুনিউ লেখেন, ‘মাঙ্কিপক্স মনিটরিং ও প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ।’ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জোর দিয়ে জানান তিনি।

সংক্রমণ এড়াতে জনসাধারণকে জুনিউর দেওয়া পাঁচ পরামর্শের প্রথমটি হলো ‘বিদেশিদের সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না।’

চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ওই পরামর্শে ওয়েইবোতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর পরামর্শকে যৌক্তিক বলে প্রশংসা করেছেন। অনেক বেশি বিদেশির সঙ্গে মিশতে হয় না বলে কেউ কেউ হাঁপ ছেড়ে বাঁচার কথা জানান। একজন ওয়েইবোতে লিখেছেন, ‘দেশে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত রাখা ভালো। তবে আমরা সবকিছুকে ঢুকতে দিতে পারি না।’

তবে অন্যরা জুনিউর পরামর্শকে বৈষম্যমূলক ও ক্ষতিকর বলে নিন্দা জানিয়েছেন। অনেকেই এ পরামর্শকে করোনা মহামারির শুরুর দিকে ছড়িয়ে পড়া জাতিবিদ্বেষ ও এশীয়দের ওপর সহিংসতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ওয়েইবোতে একজন লিখেছেন, ‘এটা অনেকটা (করোনা) মহামারি যখন শুরু হয়েছিল, তখনকার পরিস্থিতির মতো। তখন চীনের নাগরিকদের দেখলে ভয়ে কেউ কেউ এড়িয়ে চলত। আমি বিশ্বাস করি না, এ দুই বিষয়ের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। এগুলোর প্রভাব ব্যাপক এবং জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াবে মাত্রাতিরিক্ত।’

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনিউর দেওয়া অন্য পরামর্শগুলোর মধ্যে রয়েছে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাইরে থেকে এসেছেন—এমন কারও শারীরিক সংস্পর্শে না যাওয়া। অপরিচিত কারও শারীরিক সংস্পর্শে না যাওয়া।

হোটেলসহ পাবলিক স্থাপনাগুলোর টয়লেটে সহজে পরিবর্তনযোগ্য আসন ব্যবহার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ৫৮ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই ১৮ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে ধরা হয়নি। ১২ সেপ্টেম্বর নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ২২ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন