২০ বছর ধরে তরুণের পেটে থার্মোমিটার

থার্মোমিটারপ্রতীকী ছবি

পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে চীনের এক তরুণ হাসপাতালে যান। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারছিলেন না, কেন পেট ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির পেটের এক্স-রে করান। তাতেই বেরিয়ে আসে পেটে ব্যথার কারণ।

এক্স-রে রিপোর্টে ওই ব্যক্তির পেটের ভেতর একটি চিকন লম্বা বস্তু দেখতে পাওয়া যায়। পরে আবিষ্কার হয়, সেটি আসলে একটি থার্মোমিটার। ঘটনাটি ঘটেছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেটের ভেতরে থার্মোমিটার পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি চিকিৎসকদের বলেন, ছোটবেলায় তিনি সত্যি সত্যিই একটি থার্মোমিটার গিলে ফেলেছিলেন।

সে সময় ওই তরুণের বয়স ছিল ১২ বছর। থার্মোমিটার গিলে ফেলার পর তিনি সে কথা তাঁর পরিবারকে জানাননি। এরপর সময় বয়ে যায়, তিনিও বিষয়টি একসময় ভুলে যান।

চিকিৎসকেরা বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে থার্মোমিটারটি ওই ব্যক্তির পেটে ছিল, এমনটা সাধারণত দেখা যায় না।

কারণ, বাইরের কিছু মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে সাধারণত সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই কেউ কিছু গিলে ফেললে দ্রুতই তার শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেবে।

মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, থার্মোমিটারের মতো জিনিস গিলে ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে শরীরের অভ্যন্তরে ক্ষত বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে বিরল হলেও সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা না দেওয়ার নজির আছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকেরা চীনের ওই তরুণের পেট থেকে থার্মোমিটারটি বের করার ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং সফলভাবে সে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওই তরুণ সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অসাবধানতাবশত বা খেলতে খেলতে বিপজ্জনক কিছু গিলে ফেলার ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটতে দেখা যায়, বিশেষ করে শিশুদের বেলায়। চিকিৎসকেরা তাই পরিবারের লোকজনদের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে শরীরে উপসর্গ দেখা দিক বা না দিক, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।