ফ্ল্যাটের মালিক হয়েও ঘুমান বিপণিবিতানের মেঝেতে
চীনের সাংহাইয়ে এক বৃদ্ধ একটি সুপারমার্কেটের আশপাশে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ান, দুর্বল শরীরে খানিকটা কুঁজো হয়ে হাঁটেন। তাঁকে দেখে কারও কারও ভিখারি মনে হতে পারে। তিনি কিন্তু মোটেও ভিখারি নন, পকেটে সব সময় ৫০ হাজার ইউয়ান নিয়ে ঘোরেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০ হাজার টাকার বেশি।
ওই বৃদ্ধের নাম চিয়াংমিং, বয়স ৭৮ বছর। এই বৃদ্ধ প্রায় এক দশক ধরে সাংহাইয়ের একটি সুপারমার্কেটে কর্মীদের প্রবেশপথে বসবাস করছেন। তিনি সেখানে একটি মাদুরে ঘুমান, দিনের বেলায় সুপারমার্কেটের খাবার জায়গায় বিশ্রাম নেন। পকেটে ৫০ হাজার ইউয়ানের পাশাপাশি তিনি একটি ডিভি রেকর্ডার সঙ্গে রাখেন।
ওই বৃদ্ধ নিজেকে ভবঘুরে বলে পরিচয় দেন। ওই সুপারমার্কেটের পাশেই তাঁর নিজের একটি ফ্ল্যাট আছে। ২০ বর্গমিটারের ওই ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ইউয়ান।
নিজের ফ্ল্যাট থাকার পরও কেন ওই বৃদ্ধ রাস্তার ধারে থাকেন, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০০০ সালে। ওই বছর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর স্ত্রীর সঙ্গে একমাত্র ছেলেও তাঁকে ছেড়ে চলে যান।
ফ্ল্যাটে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন এই বৃদ্ধ। তাঁকে দেখাশোনার কেউ ছিল না। তাঁর ভয় হচ্ছিল, একদিন ফ্ল্যাটের ভেতর একা মরে পড়ে থাকতে হবে তাঁকে। নিজের একাকিত্ব কাটাতে তিনি কঠিন এক সিদ্ধান্ত নেন, ফ্ল্যাট ছেড়ে নেমে আসেন রাস্তায়।
কিন্তু রাস্তাতেও তাঁকে দেখাশোনার কেউ ছিল না। তিনি সুপারমার্কেটে কর্মীদের প্রবেশপথে ঘুমানো শুরু করেন। তাঁর মুখের দাড়ি বড় হতে থাকে, জামাকাপড়ে ময়লা জমে। এভাবেই দিন চলছিল।
তবে পরের বছর তাঁর ত্রাতা হিসেবে হাজির হন একজন ন্যানি। ওই নারীর নাম হুয়াং। হুয়াং এক বৃদ্ধের দেখাশোনার কাজ করেন। ওই বৃদ্ধকে নিয়ে তিনি নিয়মিত হাঁটতে বের হন। একদিন সুপারমার্কেটে গিয়ে তিনি চিয়াংমিংকে দেখতে পান। তিনি স্বজনহীন এই বৃদ্ধকেও সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রথম দিন চিয়াংমিংয়ের মাথার চুল ধুয়ে দিতে সাহায্য করেন হুয়াং। এরপর তিনি নিয়মিত তাঁর কাছে যাওয়া শুরু করেন। তিনি চিয়াংমিংয়ের জন্য খাবার নিয়ে যান, তাঁকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেন, তাঁর দেখাশোনা করেন।
চিয়াংমিংয়ের একজন পুরোনো প্রতিবেশী চিয়াংমিংকে মাঝেমধ্যে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, হুয়াংয়ের যত্নে তাঁকে আরও সুস্থ ও সুখী দেখাচ্ছে।
কৃতজ্ঞ চিয়াংমিং হুয়াংকে নিজের ‘মেয়ে’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁকে দেখাশোনার বিনিময়ে নিজের ফ্ল্যাটটি তিনি হুয়াংয়ের নামে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ছেলে আপত্তি তুলেছিলেন, কিন্তু তিনি আমলে নেননি।