চীন দ্রুত তাইওয়ানকে একীভূত করতে চায়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন
ছবি: রয়টার্স

বেইজিং তাদের আগের পরিকল্পনার চেয়ে ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ স্বশাসিত দ্বীপ অঞ্চল তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এমন দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, চীনকে আরও আগ্রাসী পথের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

আজ মঙ্গলবার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে ব্লিঙ্কেন এ কথা বলেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস। সেখানে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমরা খুব অন্য রকম একটি চীনের উত্থান হতে দেখেছি। এই চীন দেশে আরও দমনমূলক; বিদেশে আরও আক্রমণাত্মক। অনেক ক্ষেত্রে এই চীন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পাশাপাশি আমাদের মূল্যবোধের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।’

গত রোববার চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস শুরুর পর সি চিন পিং তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কংগ্রেস শুরুর প্রথম দিনে দেওয়া ভাষণেই সি তাইওয়ান প্রসঙ্গে কথা বলেন। গত এক দশকে তাঁর শাসনামলে চীনের অগ্রগতির বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেন সি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বলপ্রয়োগ করে হলেও একদিন তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূত করা হবে।

স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিয়ে চীনের অবস্থান পরিবর্তন করে সি ভয়ংকর উত্তেজনা তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেন ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, তাইওয়ানের বিষয়ে চীন নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে তাইওয়ানের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাইওয়ানকে একীভূত করার জন্য চীন মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ব্লিঙ্কেন বলেন, তাইওয়ানকে যে প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে আসছে, তা রক্ষা করা হবে।

তাইওয়ানের নিজেদের আত্মরক্ষার যে সামর্থ্য রয়েছে, তাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। ব্লিঙ্কেনের এ কথার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অবস্থানের মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতি অনুযায়ী তাইওয়ান বিষয়ে ওয়াশিংটন কখনো সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু বাইডেন সেই অবস্থান বদলে একাধিকবার বলেছেন, তাইওয়ানকে রক্ষায় সবকিছু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীন তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। বেইজিং এখন তাদের সামরিক উপস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে নিতে চাইছে, যেখান থেকে খুব দ্রুতই যেন সামরিক অভিযান চালিয়ে তাইওয়ান দখলের সক্ষমতা তৈরি হয় তাদের।

দীর্ঘদিন ধরে চীনের অবস্থান ছিল, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাইওয়ানকে একীভূত করতে চায়। প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করার বিষয়টি বিকল্প উপায় হিসেবেই বিবেচনা করত বেইজিং। বিশেষ করে তাইওয়ান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করে, সে ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সি চিন পিং চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তাইওয়ান প্রসঙ্গে বেইজিংয়ের সেই অবস্থান বদলে গেছে এবং দ্বীপটি ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতাও অনেক বেড়েছে।

সি চিন পিং তাইওয়ানকে তাঁর কথিত ‘চীন জাতির মহান পুনরুজ্জীবন’ প্রকল্পের অংশ মনে করেন। এর আগে তিনি বলেছেন, তাইওয়ানকে একীভূত করার লক্ষ্য প্রজন্মের পর ধরে চলতে পারে না। গত রোববার কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। সি বলেন, ‘ইতিহাসের চাকা চীনকে পুনরায় এক করার দিকে এগিয়ে চলেছে এবং আমরা তাইওয়ান নিয়ে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখি।’

কংগ্রেস শুরুর এক দিন আগে কমিউনিস্ট পার্টির একজন মুখপাত্রও সির সুরে কথা বলেন। মুখপাত্র সান ইয়েলি বলেন, বাধ্য হতে হয় এমন কোনো পরিস্থিতিতে শেষ উপায় হিসেবে তাইওয়ানের ওপর বলপ্রয়োগের অধিকার চীনের আছে। তবে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানকে একীভূত করার বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে করতে চায় বেইজিং।