চীন কি যুদ্ধের জন্য রোবট সৈন্য তৈরি করছে, আসলে কী
মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবটরা হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমন একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, চীনের সামরিক বাহিনী রোবট সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওর পোস্টে লেখা হয়েছে, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক পরিষেবার প্রস্তুতির জন্য রোবটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। চীনের রোবট ‘ইউনিট্রি’–এর (ইউশু) সরাসরি গুলি চালানোর পরীক্ষাটি দেখে মনে হচ্ছে, যেন এটি এআই দিয়ে তৈরি। এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও ভবিষ্যতে যুদ্ধের জন্য হয়তো আর মানুষের প্রয়োজন হবে না।
তবে ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এআই গ্রোক–এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে।
গ্রোকের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘না, এ ভিডিওটি এআই জেনারেটেড বা বানোয়াট বলে মনে হচ্ছে। ২০২৬ সালে চীনের সামরিক বাহিনীর লাইভ ফায়ার পরীক্ষায় ইউনিট্রি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের যাচাই করা কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।’
গ্রোকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউনিট্রি রোবটের আসল প্রদর্শনীগুলো মূলত সাধারণ কাজের জন্য ছিল, যেমন বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। অতীতের সামরিক পরীক্ষাগুলোয় চার পায়ের রোবট ব্যবহার করা হয়েছিল, মানুষের মতো রোবট সৈন্য নয়।
অনলাইনে এ ধরনের দাবি এবারই প্রথম নয়।
এর আগেও ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) কাছাকাছি এলাকায় টহলের জন্য এআই–চালিত রোবট মোতায়েন করেছে।
চীন আলাদাভাবে ঘোষণা দিয়েছে, তারা প্রধান প্রধান সীমান্ত পারাপার এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তার মতো অ–সামরিক কাজের জন্য হিউম্যানয়েড রোবটের পরীক্ষা চালাচ্ছে। শেনজেনভিত্তিক ইউবিটেক রোবোটিকস একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ভিয়েতনাম সীমান্তে হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের চুক্তি সই করেছে।
এই পরীক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে ‘ওয়াকার এস২’, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উন্মোচন করা উন্নত মানের হিউম্যানয়েড রোবট। এটিকে বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যে রোবট নিজেই নিজের ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারে।
এর ফলে এই রোবট দীর্ঘ সময় ধরে নিজে থেকেই কাজ করতে সক্ষম, যা লজিস্টিক, কাস্টমস ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক বৈশিষ্ট্য।
হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চিনের বিশেষ চেষ্টা
সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চীন হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির চেষ্টা আরও জোরদার করছে। চীনের কোম্পানি ইউনিট্রি রোবোটিকস সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মানুষের সঙ্গে হিউম্যানয়েড রোবটদের মার্শাল আর্ট প্রদর্শন করে দেখিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ‘ম্যাজিকল্যাব’ একই অনুষ্ঠানে রোবটদের নাচের প্রদর্শন করেছে। আবার ‘নোয়েটিক্স রোবোটিকস’ অবিকল মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড প্রদর্শন করেছে। বেইজিংভিত্তিক ‘গ্যালবট’ এমন রোবট দেখিয়েছে, যেগুলো আখরোট ভাঙা, সসেজ বানানো ও কাপড় ভাঁজ করার মতো দৈনন্দিন কাজ করতে সক্ষম।
সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান শ্রম খরচ ও কমতে থাকা কর্মক্ষম জনসংখ্যার মধ্যেও বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চীন রোবোটিকস খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবোটিকসের তথ্যমতে, চীন বিশ্বের বৃহত্তম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী যত রোবট বসানো হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি হয়েছে চীনে।
অবশ্য বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট মূলত বিনোদন ও প্রদর্শনীতে বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে চীন সরকারের বিপুল ভর্তুকিতে কয়েক ডজন কোম্পানি এগুলোকে বর্তমানে কারখানা, লজিস্টিক সেন্টার ও গবেষণাগারে পরীক্ষা করছে।