গত ১৩ বছর ধরে সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ এক বিশাল সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার পেছনে সময় দিয়েছেন। কিন্তু চীনের সামরিক শক্তি যত বেড়েছে, বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে নিজের হাতে বেছে নেওয়া জেনারেলদের ওপর সি চিন পিংয়ের আস্থা ততটাই কমেছে।
সম্প্রতি চীনের একটি নীতি-নির্ধারণী সভায় সি চিন পিংয়ের চালানো সামরিক শুদ্ধি অভিযানের চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এক বছর আগেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে একই ধরনের সভায় প্রায় ৪০ জন জেনারেলকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের সভায় হাতেগোনা কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা গেছে। চীনের এই নেতা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে মাও সে–তুং আমলের মতো বড় ধরনের রদবদলের পালা এখনো শেষ হয়নি। কঠোর মুখে সভায় উপস্থিত বাকি কর্মকর্তাদের সি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কারও মধ্যে যেন বিন্দুমাত্র আনুগত্যহীনতা না থাকে।
সি চিন পিং বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে এমন কেউ থাকতে পারবেন না, যাঁর মনের মধ্যে পার্টির প্রতি বিভক্তি বা দ্বিধা রয়েছে।’
ক্ষমতায় আসার পর গত ১৩ বছরের মধ্যে সি চিন পিংয়ের জন্য এ এক অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট। গত এক দশক ধরে যে সামরিক নেতৃত্বকে তিনি নিজের মনের মতো করে সাজিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাদের ওপর থেকেই আস্থা হারিয়েছেন—এমন জনসমক্ষে স্বীকারোক্তি দেওয়ার ঘটনা বিরল।
তাইওয়ানের ন্যাশনাল চেংচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চিয়েন-ওয়েন কু বলেন, ‘সি চিন পিং যখন “ডিভাইডেড হার্ট” (দ্বিধাবিভক্ত মন/বিভক্ত আনুগত্য) শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন এর গভীর অর্থ থাকে।’
প্রাচীন চীনের বিভিন্ন নীতিশাস্ত্রে রাজাদের সতর্ক করা হয়েছিল যেন তাঁরা বিশ্বাসঘাতক জেনারেলদের থেকে সাবধানে থাকেন। এমন একটি বই সি চিন পিংয়ের ব্যক্তিগত সংগ্রহেও রয়েছে।
অধ্যাপক চিয়েন–ওয়েন আরও বলেন, ‘যখন তাঁর (সি চিন পিং) সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ লোকেরাই পদচ্যুত হন, তখন প্রশ্ন জাগে—আর কে তাঁর আস্থা অর্জন করতে পারবেন?’
ক্ষমতায় আসার পর গত ১৩ বছরের মধ্যে সি চিন পিংয়ের জন্য এ এক অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট। গত এক দশক ধরে যে সামরিক নেতৃত্বকে তিনি নিজের মনের মতো করে সাজিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁদের ওপর থেকেই আস্থা হারিয়েছেন—জনসমক্ষে এমন স্বীকারোক্তি দেওয়ার ঘটনা বিরল।
এই সংকটের কারণে সি চিন পিংয়ের অন্যতম বড় এক সাফল্য এখন হুমকির মুখে। তিনি চীনের সামরিক বাহিনীকে একটি শক্তিশালী শক্তিতে রূপান্তর করেছেন; যার ঝুলিতে রয়েছে নতুন বিমানবাহী রণতরি, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বড় পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার। এ পরিস্থিতি (সংকট) এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা ও ইরানে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও এর সীমাবদ্ধতা—দুটোই স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রেসিডেন্ট সির দাবি অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত ও শক্তিশালী করতে এ শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। তবে এর ফলে চীনের যুদ্ধপ্রস্তুতি আগামী কয়েক বছরের জন্য ব্যাহত হতে পারে। একসময় যা শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে সীমিত অভিযান মনে হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত কয়েক ডজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার গণপদচ্যুতির ঘটনায় রূপ নিয়েছে। এর চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে চলতি বছরের শুরুর দিকে চীনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ঝাং ইউক্সিয়ার পতনের মধ্য দিয়ে। ঝাং ইউক্সিয়াকে সির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বলে মনে করা হতো।
কিছু সূত্রের দাবি, সি যখন শুদ্ধি অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেলকে ঝাংয়ের সমমর্যাদার কোনো পদে পদোন্নতি দিতে চেয়েছিলেন, তখনই তাঁদের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। জেনারেল ঝাং এতে আপত্তি জানান। এর কয়েক মাস পরই তিনি পদ হারান।
এই শুদ্ধি অভিযানের ভয়াবহতা গত সপ্তাহে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার অপরাধে দেশটির একটি সামরিক আদালত দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁদের সম্ভবত বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।
উল্লেখ্য, এমন সাজার অর্থ হলো, আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তা এখনই কার্যকর করা হবে না। আগামী দুই বছর তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এ সময়ের মধ্যে যদি আসামি কোনো নতুন অপরাধ না করেন ও কারাগারে ভালো আচরণ দেখান, তবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হবে।
চীনের রাজনীতি ও সামরিক বাহিনী নিয়ে গবেষণা করেন ইয়েল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড্যানিয়েল ম্যাটিংলি। তিনি বলেন, ‘এটি সি চিন পিংয়ের নিজস্ব সেনাবাহিনী। তাহলে তিনি নিজে যা গড়ে তুলেছেন, তা কেন নিজেই ভাঙছেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি পাঁচ বছর আগেও মানুষ সি চিন পিংয়ের কাছ থেকে এমনটা আশা করেনি। বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ঘটে গেছে।’
সেনাবাহিনীতে এমন কেউ থাকতে পারবেন না, যাঁর মনের মধ্যে পার্টির প্রতি বিভক্তি বা দ্বিধা রয়েছে।
সি যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন, তা বাস্তব। তবে আগে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি এমন কিছু রুদ্ধদ্বার বক্তৃতায় অন্য একটি কারণ ফুটে উঠেছে। সি তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অবাধ্যতাকে রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখেন। বিশ্লেষকদের মতে, সির ধারণা হয়েছে যে সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য তিনি যাঁদের বেছে নিয়েছিলেন, তাঁরা আর বিশ্বস্ত নেই। দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির কারণে তাঁদের আনুগত্য ও কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অস্থিরতা সির দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। এর একটি হলো যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া এবং অন্যটি হলো প্রশ্নাতীত আনুগত্য নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এক জেনারেলকে সরিয়ে দিয়েছেন, যিনি সামরিক বাহিনীকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। তাঁর জায়গায় এমন একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, যিনি মূলত তদন্তকারী বা বিচারকের ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে সির পাশাপাশি তিনিই চীনের সর্বোচ্চ সামরিক কাউন্সিলের একমাত্র সদস্য হিসেবে টিকে আছেন।
অধ্যাপক চিয়েন–ওয়েন কু বলেন, ‘সি চিন পিংয়ের শাসনকাল ধীরে ধীরে শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এ পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বদলে যাচ্ছে এবং তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সদস্যদের নিয়ে ক্রমশ বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।’
অস্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
ক্ষমতার শুরুর দিকে সি চিন পিং তাঁর পূর্বসূরি হু জিনতাওয়ের পরিণতি এড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। হু জিনতাও চীনের সামরিক কমান্ডারদের ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়।
২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের বেইজিং সফরের সময় হু জিনতাওয়ের এ দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছিল। সে সময় চীনের ওয়েবসাইটগুলোতে একটি স্টিলথ ফাইটার জেটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের খবর আসে। গেটস এ বিষয়ে জিনতাওকে প্রশ্ন করলে দেখা যায়, তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। পরে গেটস সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ওই পরীক্ষা নিয়ে বেসামরিক নেতৃত্ব অবাক হয়েছে বলে মনে হয়েছে।’
সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ও বর্তমানে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সদস্য জন কালভার বলেন, সেনাকমান্ডারদের কাছে হু জিনতাওয়ের নির্দেশনা ছিল অনেকটা ‘পরামর্শের’ মতো—যা তাঁরা বিবেচনা করে দেখতেন। তিনি বলেন, ‘মূলত সেই ব্যবস্থাটি (চীনের সামগ্রিক সামরিক শাসনব্যবস্থা বা কাঠামো) আর কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল না।’
এই শুদ্ধি অভিযানের ভয়াবহতা গত সপ্তাহে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার অপরাধে দেশটির একটি সামরিক আদালত দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁদের সম্ভবত বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর সি চিন পিং সেই কমান্ডারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন, যাঁরা হু জিনতাওয়ের আমলে অঢেল সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক হয়েছিলেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁদের সামাজিক মর্যাদার কারণে আগে ছোঁয়াও সম্ভব ছিল না।
২০১৪ সালে সি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর গুটিয়ানে শত শত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে তলব করেন। কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯২৯ সালে এই গুটিয়ানেই মাও সে–তুং সেই মৌলিক নীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আজকের চীনকে সংজ্ঞায়িত করে—‘পার্টিই অস্ত্রের (সেনাবাহিনী) নিয়ন্ত্রণ করবে।’
সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যবহার করে সি চিন পিং সতর্ক করেছিলেন যে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ বিপজ্জনক পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে। গুটিয়ানে তিনি তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পার্টির আদর্শের ওপর বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবাধ্যতা নির্লজ্জ রূপ নিয়েছে। এমনকি প্রশিক্ষণের নামে এমন ভুয়া মহড়া হতো যেখানে সেনারা বন্দুকের বদলে কোদাল ও লাঠি ব্যবহার করেছেন।’
ভেতরের পচন
সির কাছে দুর্নীতির এই পচনের বড় উদাহরণ ছিলেন জেনারেল শু সাইহৌ। তিনি সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের অবসরে যাওয়া ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, যা তাঁকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) শীর্ষ নেতৃত্বের সারিতে বসিয়েছিল। জেনারেল শুর বিরুদ্ধে পদোন্নতির বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নেওয়াসহ দুর্নীতির নানা অভিযোগ ছিল।
গুটিয়ানে দেওয়া সি চিন পিংয়ের একটি বক্তৃতার অনুলিপি সেনাবাহিনীতে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা আগে বিস্তারিত জানা যায়নি। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘শু সাইহৌ সব সময় বড় গলায় পার্টির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও অবিচল আনুগত্যের কথা বলতেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক আগেই পার্টির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অতলে তলিয়ে গিয়েছিলেন।’
দেশের বাইরের কিছু ঘটনাও সির মনে ভীতি জাগিয়েছিল। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতাদের উদাহরণ টেনে কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। সেখানে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সেনাবাহিনী পাশ থেকে সরে দাঁড়ানোয় কীভাবে ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল, সেই সতর্কবাণী তিনি শুনিয়েছিলেন।
যখন তাঁর (সি চিন পিং) সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ লোকেরাই পদচ্যুত হন, তখন প্রশ্ন জাগে—আর কে তাঁর আস্থা অর্জন করতে পারবেন?
সি যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন থেকেই পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রতি তাঁর একধরনের শ্রদ্ধা ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন একজন বিপ্লবী নেতা, যিনি মাও সে–তুংয়ের অধীন লড়াই করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে সিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সেনাবাহিনীতে নিজের ও পার্টির প্রতি আনুগত্য ফিরিয়ে আনতে হলে ‘রাজনৈতিক কাজ’ পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। অর্থাৎ কর্মকর্তাদের মগজধোলাই, কড়া নজরদারি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই তাঁদের বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।
গুটিয়ানে তাঁর কাঙ্ক্ষিত নতুন শৃঙ্খলার বার্তা পৌঁছে দিতে সি চিন পিং সাধারণ মোটা চালের ভাত ও মিষ্টিকুমড়ার স্যুপ খেয়েছিলেন। আদিকালের রেড আর্মির সদস্যদের স্মৃতিবিজড়িত সাধারণ এই খাবারের মাধ্যমে তিনি ত্যাগের মহিমা তুলে ধরেন।
সি চিন পিং বলেন, ‘পার্টির প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের মূলভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে “পূর্ণ” শব্দটির ওপর। এ আনুগত্য হবে অটুট, সর্বজনীন, শর্তহীন ও সব ধরনের খাদ ও ভণ্ডামিমুক্ত।’
চেয়ারম্যানের হাতেই সব নিয়ন্ত্রণ
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বছরগুলোতেই সি ‘চেয়ারম্যান রেসপন্সিবিলিটি সিস্টেম’ বা চেয়ারম্যানের দায়–দায়িত্ব ব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করেন। এ আমূল পরিবর্তনের ফলে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর দখল এবং বাহিনীর ভেতরে গভীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর ওপর তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়। পদোন্নতির জন্য সঠিক কমান্ডারদের খুঁজে বের করার বিষয়ে তিনি নিজের দক্ষতার ওপর আস্থার কথা জানিয়েছিলেন।
২০১৬ সালের এক রুদ্ধদ্বার বক্তৃতায় পদোন্নতিপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই ও তাঁদের সঙ্গে কথা বলার প্রক্রিয়া বর্ণনা করে সি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি হলো, সঠিক লোক নির্বাচন করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তারা সামরিক বাহিনী গঠন ও পরিচালনার মূল ভিত্তি। সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে এ বিষয়টি আমার ব্যক্তিগতভাবে সামলানো উচিত।’
সি চিন পিং দশকের পুরোনো সামরিক অঞ্চলগুলোর বদলে নতুন ‘থিয়েটার কমান্ড’ ব্যবস্থা চালু করেন। একই সঙ্গে পিপলস লিবারেশন আর্মির কেন্দ্রীয় বিভাগগুলো বিলুপ্ত করে দেন, যেগুলো তিনি কার্যকর নিয়ন্ত্রণের পথে বাধা হিসেবে দেখতেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, চীনকে এমন এক সক্ষমতা দেওয়া যাতে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী সম্মিলিতভাবে বিদেশে শক্তি প্রদর্শন করতে পারে। একই সঙ্গে এ আধুনিক বাহিনীকে যেন অবিচলভাবে অনুগত রাখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সির ধারণা হয়েছে যে সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য তিনি যাঁদের বেছে নিয়েছিলেন, তাঁরা আর বিশ্বস্ত নেই। দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির কারণে তাঁদের আনুগত্য ও কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে।
সির এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্যতম বিশ্বস্ত কমান্ডার ছিলেন জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়া। তিনি ছিলেন একজন কর্কশভাষী কিন্তু ক্যারিশম্যাটিক (আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী) কর্মকর্তা। ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী জেনারেলের সন্তান, যিনি সি চিন পিংয়ের বাবার সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন।
সি আগেই ঝাংকে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে পদোন্নতি দিয়েছিলেন এবং সামরিক বাহিনীর জেনারেল আর্মামেন্টস বিভাগের প্রধান করেছিলেন। এই বিভাগটি নতুন অস্ত্র সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল, যা সি চিন পিংয়ের আধুনিকায়ন পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশাল বাজেট ও চুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে বিভাগটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল।
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা সামরিক প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জেনারেল ঝাংয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল পেন্টাগনে সেই সময় কর্মরত ড্রু থম্পসনের। তিনি বলেন, ‘কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী পারিবারিক পটভূমি থেকে আসা ঝাংয়ের মধ্যে সেই আভিজাত্য স্পষ্ট ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় পারিবারিক ঐতিহ্য, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও পরিবর্তনের প্রতি আগ্রহই তাঁকে সির কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।’
২০১৮ সালের মধ্যে সি নিজের সংস্কার কার্যক্রমের ফলাফল দেখে সন্তুষ্ট হন। সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের কাছে কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করলেও তিনি বলেছিলেন, এ পরিবর্তনগুলো একটি ‘ঐতিহাসিক রূপান্তর’, যা ‘সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করেছে’।
২০২২ সালে যখন সি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন, তখন অভাবনীয়ভাবে জেনারেল ঝাং-কে সামরিক কমিশনে রেখে দেন তিনি। ৭২ বছর বয়সী এই কমান্ডারের তখন অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সি তাঁকে চীনের শীর্ষ জেনারেলের দায়িত্ব দেন। ২০২৭ সালের মধ্যে চীনের সামরিক সক্ষমতায় আমূল পরিবর্তনের যে লক্ষ্য সি চিন পিং নির্ধারণ করেছিলেন, তা কার্যকর করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় তাঁর ওপর।
শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলেন যিনি
দুই সপ্তাহ পর ‘জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড সেন্টার’ পরিদর্শনের সময় সি চিন পিং বলেছিলেন, চীন এক ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি। তিনি নির্দেশ দেন, ‘আমাদের সব শক্তি যুদ্ধের প্রস্তুতির দিকে নিবদ্ধ করো।’
কিন্তু মাত্র ছয় মাস পার হতেই ২০২৩ সালে সেই স্থিতিশীলতার আবরণে ফাটল ধরে। সি চিন পিং হঠাৎ করে রকেট ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার ও তাঁর সহকারীকে সরিয়ে দেন। পারমাণবিক ও প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী এ বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এমন রদবদল ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। এই শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকেও বরখাস্ত করা হয়।
হঠাৎ করেই মনে হতে শুরু করল, সি সামরিক বাহিনীর যে আমূল পরিবর্তনের দাবি করেছিলেন, তা সেই একই দুর্নীতি আর অবাধ্যতার পুরোনো রোগে আক্রান্ত। অথচ তিনি দাবি করেছিলেন, এসব আবর্জনা তিনি আগেই পরিষ্কার করেছেন।
এবার সি তাঁর কমান্ডারদের নিয়ে যান মাও সে–তুংয়ের বিপ্লবের ভূমি ইয়ান-আনে। সেখানে তিনি ‘রাজনৈতিক শুদ্ধীকরণ’ অভিযান আরও জোরদার করার ডাক দেন। এর পরের দুই বছরে ডজনখানেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় অথবা তাঁরা জনসম্মুখ থেকে নিখোঁজ হয়ে যান।
শুদ্ধি অভিযান যত বিস্তৃত হয়েছে, তদন্তের দায়িত্বে থাকা জেনারেল ঝাং শেংমিনের ক্ষমতাও তত বেড়েছে। সামরিক অভিযানে খুব একটা অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ওপরের দিকে উঠে আসেন। রকেট ফোর্সে তিনি ছিলেন একজন ‘রাজনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক’। তাঁর কাজ ছিল বাহিনীগুলোর ভেতরে পার্টির প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করা। চীনা ক্যালিগ্রাফির প্রতি অনুরাগের জন্য তাঁর পরিচিতি ছিল।
পরে ঝাং শেংমিনকে সামরিক বাহিনীর দুর্নীতি ও আনুগত্যহীনতা তদন্তে নবগঠিত একটি সংস্থার প্রধান করা হয়। তাঁর এ উত্থান প্রমাণ করে, সি চিন পিং যুদ্ধপ্রস্তুতির চেয়ে আদর্শিক নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আনুগত্যকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো জোয়েল উথনো বলেন, ‘সি চিন পিংয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্নীতির কারণে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকা মানেই হলো আদর্শিক বিচ্যুতি। ২০২৩ সালে সি চিন পিং যা ভেবেছিলেন, দুর্নীতির শিকড় সম্ভবত তার চেয়েও গভীরে ছিল। তাই তাঁকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।’
ব্রুকিংসের গবেষক জন কালভারের মতে, ব্যাপক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভবত জেনারেল শেংমিনের ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে তদন্তকারীরা কর্মকর্তাদের জীবনযাপন এবং তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক লেনদেনের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার বাড়তি সুযোগ পাচ্ছেন।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এ শুদ্ধি অভিযান শুধু কর্মকর্তাদের পদমর্যাদাই নয়, বরং শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিচ্ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, তদন্ত যত গভীর হয়েছে (বাহিনীগুলোর মধ্যকার দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির), সামরিক অভিজাতদের মধ্যে অস্থিরতাও তত বেড়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধ জয়ের লক্ষ্যে কাজ করা কমান্ডার ও রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
(চীনের ক্ষমতাসীন) পার্টির আদর্শের ওপর (সামরিক বাহিনীর) বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবাধ্যতা নির্লজ্জ রূপ নিয়েছে।
সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা ড্রু থম্পসন এটি ‘রেড ভার্সেস এক্সপার্ট’ (রাজনৈতিক আনুগত্য বনাম পেশাদার দক্ষতা) দ্বন্দ্বে প্রেসিডেন্ট সির আটকে পড়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এখানে ‘রেড’ বলতে মূলত কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্যকে বোঝানো হয়েছে।
আগামী বছরের শেষের দিকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পরবর্তী সম্মেলন ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে সি তাঁর ক্ষমতার ওপর যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছেন। তাঁর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়া বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তাঁর অনেক সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনিও (জেনারেল ইউক্সিয়া) পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত ছিলেন না। তদন্তের জালে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য জেনারেলরাও জড়িয়ে পড়েছিলেন, যা পরোক্ষভাবে তাঁর ওপরও দায় চাপানোর সুযোগ তৈরি করেছিল।
এদিকে প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা জেনারেল ঝাং শেংমিনের ক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছিল। গোয়েন্দা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘চায়না স্ট্র্যাটেজিস গ্রুপ’-এর প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার কে জনসন বলেন, সি চিন পিং যখন জেনারেল শেংমিনকে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তখনই পরিস্থিতি চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।
জনসনের মতে, জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়া ও তাঁর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড জেনারেল লিউ ঝেনলি ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, একজন তদন্তকারীকে এত শক্তিশালী পদে বসানো হলে পিপলস লিবারেশন আর্মিকে একটি অপেশাদার বা অকার্যকর যুদ্ধ সক্ষমতার বাহিনী হিসেবে মনে হতে পারে।
আধুনিক চীনের ইতিহাসে এমন অনেক কমান্ডারের উদাহরণ আছে, যাঁরা তাঁদের নেতার ওপর নিজেদের প্রভাব কতটা, তা বুঝতে ভুল করেছিলেন। জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়াও সম্ভবত একই ভুল করেছেন। জনসন বলেন, ‘ঝাং ইউক্সিয়া ভেবেছিলেন এ কথা বলার মতো (সির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা) যোগ্যতা ও অধিকার তাঁর আছে, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল না।’
চলতি বছরের শুরুতে যখন ঝাং ইউক্সিয়া ও তাঁর সহকারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন সামরিক বাহিনীর সরকারি মুখপত্র তাঁদের বিরুদ্ধে ‘চেয়ারম্যান রেসপন্সিবিলিটি সিস্টেম’ মারাত্মকভাবে পদদলিত করার অভিযোগ আনেন। অথচ সি এ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন সামরিক বাহিনীর ওপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য।
তবে প্রেসিডেন্ট সি এখানেই থেমে নেই। গত মাসে সামরিক বাহিনীর ভেতরে ‘আদর্শিক শুদ্ধীকরণ ও বিপ্লবী রূপান্তর’ নামের একটি কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি। এটি মূলত কর্মকর্তাদের মগজধোলাই করার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। বেইজিংয়ে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ নিতে আসা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক অনুষ্ঠানে সি যে বক্তব্য দেন, তাতে স্পষ্ট, আনুগত্য নিশ্চিত করার এ অভিযান চলতেই থাকবে।
ওই অনুষ্ঠানের টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, সি চিন পিং যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সারিবদ্ধভাবে বসা কর্মকর্তারা অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে তা নোট করছেন। আর সির ঠিক পাশেই বসে ছিলেন তাঁর সেই প্রধান অস্ত্র বা আজ্ঞাবহ জেনারেল ঝাং শেংমিন।
অনুবাদ: মো. আবু হুরাইরাহ্