প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নামের তহবিল থেকে বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করে টিকে থাকা দেশগুলো সহায়তা পাবে। দীর্ঘ সময় ধরে কার্বন নিঃসরণকারী ধনী দেশগুলো এ তহবিলে অর্থ দেবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ে তিন দশক ধরে দাবি জানিয়ে আসছে দরিদ্র দেশগুলো।

মিসরের শার্ম আল–শেখে এবারের কপ সম্মেলন শুরু হয়েছিল ৬ নভেম্বর। শেষ হওয়ার কথা ছিল গত শুক্রবার। তবে সহায়তা তহবিল নিয়ে আলাপ–আলোচনা ও দর–কষাকষিতে সময়সীমা এক দিন বাড়িয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত করা হয়। অবশেষে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত আলোচনা শেষে তহবিল গঠনে একমত হয় দেশগুলো।

এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘ন্যায়বিচারের জন্য এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।’ এ নিয়ে জার্মানির জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী জেনিফার মরগান বলেছেন, ‘আমরা এ চুক্তিতে রাজি হয়েছি, কারণ আমরা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পাশে থাকতে চাই।’

২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি শিল্পায়ন পূর্ব যুগের থেকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পদক্ষপে গ্রহণে চুক্তি হয়। এ সম্মেলনের চুক্তিতে ওই লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এ সীমার মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। এরই মধ্যে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকাতে কপ–২৭–এর তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এবারের সম্মেলনের প্রস্তাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে জোর দেওয়ায় ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় জলবায়ু ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী লরেন্স টুবিয়ানা বলেন, ‘এবারের কপে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবসায়ীদের বড় প্রভাব ছিল। মিসর সরকার এমন একটি খসড়া প্রস্তাব সামনে এনেছে, যেটি স্পষ্টভাবে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোকে রক্ষা করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী বছরেও এমন হোক, তা আমরা চাই না।’ উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের কপ–২৮ আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে।