ভারতের কি ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ন্ত্রণের স্বপ্ন শেষ

দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের উপকূলীয় শহর চাবাহারে শহীদ বেহেশতি টার্মিনালে নতুন সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে একটি পণ্যবাহী জাহাজ। ওমান উপসাগরের উপকূল, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আবারও এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। এবারের কারণ, ইরানের চাবাহার বন্দরে নয়াদিল্লির এক দশক ধরে করা বিনিয়োগ।

নিজের সম্প্রসারিত প্রতিবেশী অঞ্চলে যোগাযোগ স্থাপনে ভারতের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পটি এখন কার্যত এক কানাগলির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার এই প্রকল্পের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আবার বৃদ্ধি করার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

চারদিকে স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্য ও ট্রানজিট করিডর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের আশার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বন্দর।

ইরানের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে চাপে রেখেছে। ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশলগত নীতির অংশ হিসেবে ইরানের রাজস্ব আয়ের পথ বন্ধ করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর সর্বশেষ উদাহরণ হলো ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে।

জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভারত এই সরু জলপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তাহলে ভারতের চাবাহার স্বপ্ন কি এখন শেষ?

চাবাহার বন্দরে ভারতের স্বার্থ কী

দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে ওমান উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত চাবাহার বন্দরটি দুটি টার্মিনাল নিয়ে গঠিত—শহীদ কালান্তারি ও শহীদ বেহেশতি।

ভারত শহীদ বেহেশতি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং এটিকে গড়ে তুলতে তারা অন্তত ১২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দুই দশক ধরে এ বন্দরটিকে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

এই মুহূর্তে ভারত ও স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।

পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার কারণে স্থলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে যাওয়ার কোনো উপায় ভারতের নেই।

চাবাহার বন্দর ভারতকে সমুদ্রপথ ব্যবহারের মাধ্যমে ওই সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল—জাহাজ প্রথমে ইরানি বন্দর এবং ইরানের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছায়। এরপর সড়ক ও রেলপথে ইরান হয়ে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় যাওয়া যায়।

গত দশকে ভারত এই পদ্ধতিই ব্যবহার করে এসেছে।

হরমুজ প্রণালি থেকে ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) পূর্বে চাবাহারের কালান্তারি বন্দরের তেলের ডকে এক নিরাপত্তাকর্মী। ১৭ জানুয়ারি, ২০১২
ছবি: রয়টার্স

ভারতের কাছে এই বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পেছনে দ্বিতীয় আরেকটি কৌশলগত কারণ রয়েছে।

২০১৬ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান ওমান উপসাগরের মোহনায় চীনের অর্থায়নে নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দর ‘গোয়াদর’ উদ্বোধন করে।

এটি একটি বাণিজ্যিক বন্দর। তবে সেখানে চীনের প্রভাব থাকায় ভারতের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল, সামুদ্রিক নৌ অভিযানের মাধ্যমে ভারতকে অর্থনৈতিক বা সামরিকভাবে চ্যালেঞ্জ করতে এটি ব্যবহৃত হতে পারে।

চাবাহারের মাধ্যমে একটি বিকল্প পথের সন্ধান পেয়েছিল ভারত। এটি গোয়াদর থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৭ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত। ওমান উপসাগরে অবস্থিত এটিও একটি গভীর সমুদ্রবন্দর।

এটি ভারতকে এমন এক কৌশলগত অবস্থান এনে দিয়েছিল, যা গোয়াদরকে পাশ কাটিয়ে চীন–পাকিস্তানের তৈরি ঝুঁকিগুলো কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারত।

চাবাহার বন্দরটি ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের (আইএনএসটিসি) দক্ষিণ প্রান্ত হিসেবেও কাজ করতে পারতে। এটি ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৪ হাজার ৪৭৪ মাইল) দীর্ঘ রেলপথ, মহাসড়ক ও সমুদ্রপথের একটি নেটওয়ার্ক, যা ইরান হয়ে রাশিয়া ও ভারতকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

ভারতভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো কবির তানেজা বলেন, ‘মধ্য এশিয়ায় ভারতের যোগাযোগ প্রচেষ্টার জন্য চাবাহার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই অঞ্চলে প্রবেশ করা নয়াদিল্লির জন্য সহজ নয়।’

আল–জাজিরাকে তানেজা বলেন, ‘এই ইরানি বন্দর ও এর সঙ্গে যুক্ত আইএনএসটিসি করিডরটি ইরানের সঙ্গে মূল বিনিয়োগের একটি সুযোগ তৈরি করেছে এবং একই সঙ্গে এটি আফগানিস্তানের মতো এমন সব ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে, যারা উপকূল ও বন্দরে যাওয়ার বহুমুখী পথ খুঁজছে।’

যখন ভারত ও ইরান ২০০৩ সালে প্রথম এই বন্দরটি উন্নয়নের বিষয়ে একমত হয়েছিল, তখন ইরানের ওপর একের পর এক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এর অগ্রগতি থমকে যায়।

২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর এই আলোচনা আবার নতুন করে শুরু হয়।

২০১৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তেহরান সফর করেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি উন্নয়নে তিনি ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ইরানের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই বন্দরটি সীমিত পরিসরে চালু হয়েছিল।

তবে চাবাহারের উন্নয়নকাজ চালিয়ে যেতে ভারত দ্রুতই ট্রাম্পের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র আদায় করে নেয়।

সে সময় আফগানিস্তান শাসন করছিল যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত একটি সরকার। চাবাহার বন্দর হয়ে তাদের কাছে ভারতীয় সহায়তা পৌঁছানোর প্রয়োজন ছিল।

২০২১ সালে কাবুলে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর জেরে প্রায়ই সীমান্তে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

ম্যাপে ইরানের চাবাহার বন্দর দেখানো হয়েছে
ছবি: আল–জাজিরার সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন থেকে নেওয়া একটি স্ক্রিনশট

চাবাহার বন্দর কি এখন নিষেধাজ্ঞার আওতায়?

ইরানের আয়ের পথ রুদ্ধ করতে ট্রাম্প ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি নিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ প্রাথমিকভাবে চাবাহার বন্দরকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রেখেছিল। এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ঘটনা।

কিন্তু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন ঘোষণা দেয়, তারা ইরান-সংক্রান্ত সব নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র বাতিল করছে, যার মধ্যে চাবাহারও রয়েছে।

খবর অনুযায়ী, ভারত লবিং করে চাবাহারের ছাড়পত্রের মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হয়। তবে এর বিনিময়ে তারা সেখানে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে জানা যায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ কোটি ডলার বিনিয়োগও পরিশোধ করে। এতে বিরোধী দলগুলো তীব্র সমালোচনা শুরু করে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করে মোদি সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্প থেকে সরে আসছে।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা তখন বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রথম ইঙ্গিতেই ভারত বিনা বাক্যে চাবাহার থেকে পিছু হটেছে বলে এখন যা শোনা যাচ্ছে, তা এই সরকারের বৈদেশিক নীতি পরিচালনার চরম দুর্বলতাকে তুলে ধরছে।’

পবন খেরা আরও বলেন, ‘ভারত সরকার আর কত দিন আমাদের জাতীয় স্বার্থের ওপর ওয়াশিংটনের খবরদারি মেনে নেবে?’

গত রোববার ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সাংবাদিকদের বলেন, নয়াদিল্লি বিষয়টি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছে।

চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে জয়সোয়াল আরও বলেন, ‘অবশ্যই বর্তমান সংঘাতও একটি জটিল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ভারতের সামনে এখন বিকল্প কী

গত বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক এক দিন আগে (তখনো মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা আসেনি) চাবাহার বন্দর পরিচালনাকারী ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডের (আইপিজিএল) নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন এবং এর ওয়েবসাইট সরিয়ে নেওয়া হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সরকার তাদের বার্ষিক বাজেটে চাবাহারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ করেনি। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম এমনটা ঘটল।

নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাজন কুমার আল–জাজিরাকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া ভারতের আর কোনো বিকল্প নেই।

কুমার বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত সংঘাত শেষ না হচ্ছে এবং ইরান কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে, ততক্ষণ ভারতের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই।’

খবর অনুযায়ী, নয়াদিল্লি তাদের সরকারি মালিকানাধীন আইপিজিএল চাবাহার ফ্রি জোনের শেয়ার একটি ইরানি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছে, যাতে তারা সেটি পরিচালনা করতে পারে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনের শেয়ার হস্তান্তরের ফলে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে ভারত আবারও বন্দর পরিচালনার ভূমিকায় ফিরে আসতে পারবে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে চাবাহার সত্যিই একটি ব্যর্থ বাজিতে পরিণত হয়েছে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এটি এখন একটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদে রূপ নিয়েছে।’

হোয়াইট হাউসে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সাল
ছবি: এএফপি

আল–জাজিরাকে কুগেলম্যান বলেন, ‘ভবিষ্যতে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে ভারত আবার সুযোগ নিতে চাইবে। কিন্তু ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তাতে এই সম্পর্ক অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থেকে যাবে।’

তাই, ভারত যদি চাবাহার বন্দর নিয়ে সামনের দিকে এগোতে চায়, তবে তাদের নিষেধাজ্ঞার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে—বলেন কুগেলম্যান।

কুগেলম্যান বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়ানো ভারতের জন্য দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।’

কুগেলম্যানের মতে, খুব বেশি হলে ভারত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে খেলতে পারে এবং পরে চাবাহার বন্দরে ফেরার কথা ভাবতে পারে। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হলে, ‘নয়াদিল্লি হয়তো এই সিদ্ধান্তে আসতে পারে, তাদের ক্ষতি মেনে নিয়ে এই প্রকল্প থেকে সরে আসা প্রয়োজন।’

তবে নয়াদিল্লিভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান পলিসি পার্সপেকটিভ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো আনোয়ার আলম বলেন, চাবাহার নিয়ে ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তাদের অগ্রাধিকারের ওপর।

আনোয়ার বলেন, ভারত চাবাহার থেকে পুরোপুরি বের না হয়েও নিষেধাজ্ঞা সামাল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সঙ্গেই একটি সমঝোতায় আসতে পারে।

আল–জাজিরাকে আনোয়ার বলেন, ‘তবে চাবাহারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেয়ে ট্রাম্প ও (ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন) নেতানিয়াহুকে খুশি রাখা যদি ভারত সরকারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসাই একমাত্র বিকল্প।’