বুচা শহটিতে অবস্থিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বলছে, বুচায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিকের হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে তারা।

মানবাধিকার কমিশন বলেছে, রাশিয়ান সেনারা জনবহুল এলাকায় নির্বিচার বোমাবর্ষণ করেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছেন, হাসপাতাল ধ্বংস করেছেন, স্কুল ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

কৃষ্ণসাগরপাড়ের ইউক্রেনীয় শহর ওদেশায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৮ জন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা বিদেশি অস্ত্রের মজুত লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ শহর ইউক্রেনের অন্য অঞ্চলের চেয়ে তুলনামূলক শান্ত ছিল। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করে, ওদেসায় ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী ‘বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের’ উসকানি দিচ্ছিল।

তবে এ ধরনের ব্যাখ্যা মানতে পারেনি পশ্চিমা দেশগুলো। তাদের অভিযোগ, নিজেদের হামলার যৌক্তিকতা তুলতে ধরতে রাশিয়া এ ধরনের অভিযোগ আগেও করেছে। দুই দিন আগেই রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা বলেছিলেন, তাঁরা পূর্বাঞ্চলের দনবাস ও দক্ষিণ ইউক্রেনের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। এরপরই ওদেসায় হামলার ঘটনা ঘটল।

পুতিনের সঙ্গে আবার সাক্ষাতের প্রস্তাব

ইউক্রেনের সেনাদের একটি দল দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ শহর মারিউপোলের ইস্পাত কারখানার টানেলে অবস্থান করছে। গত শনিবার শহরটি থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সর্বশেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার জেলেনস্কি আবারও ‘যুদ্ধ শেষ করতে’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। পুতিনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যিনি এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, তিনিই এটা শেষ করতে পারেন।’ তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে তিনি ‘ভীত’ নন। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, মারিউপোলে তাঁর সেনাদের যদি হত্যা করা হয়, তাহলে কিয়েভ শান্তি আলোচনা পরিত্যাগ করবে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মস্কো সফরের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। কিয়েভে আসার আগে আগামীকাল মঙ্গলবার মস্কোয় গিয়ে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা গুতেরেসের। এই সফর অনুচিত ও যুক্তিহীন, বলেন তিনি। মস্কোর রাস্তায় কোনো লাশ নেই উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের প্রভাব, মানুষের অবস্থা দেখতে প্রথম ইউক্রেনে আসাই যুক্তিযুক্ত ছিল আন্তোনিও গুতেরেসের।

এদিকে শনিবার মারিউপোল শহরের ২০০-এর মতো বাসিন্দা জড়ো হলে রাশিয়ার সেনারা তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। নগর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা পেত্রা আন্দ্রেউশচেঙ্কো দাবি করেন, শহরের বাকি বাসিন্দাদের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অন্য জায়গায় চলে যেতে বলা হয়। ক্রেমলিন মারিউপোলকে এর মধ্যেই ‘মুক্ত’ বলে দাবি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউ ফর দ্য স্টাডি ওয়ারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ মনে করে, সামনের দিনগুলোতে রাশিয়ার সেনারা তাঁদের আক্রমণের মাত্রা বাড়াবেন। এটা কত তাড়াতাড়ি ও কতটা ব্যাপকভাবে তাঁরা করবেন, সেটা এখনই বলা কঠিন।

‘আমাদের সেনারা অবস্থান ধরে রেখেছেন’

ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের কয়েক শ সেনা ও বেসামরিক নাগরিক মারিউপোলের ইস্পাত কারাখানার ভেতরে আটকা পড়েছেন। এ অবস্থায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে কিয়েভ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, আটকে পড়া বেশির ভাগ মানুষ সামান্য খাবার বা কোনো খাবার ছাড়াই টিকে আছেন। রাশিয়ার সেনাদের আক্রমণ কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ওলেস্কি আরেস্তোভিচ বলেছেন, রাশিয়ার সেনারা আবার ইস্পাত কারখানায় আক্রমণ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভীষণ কঠিন সময়েও আমাদের রক্ষাকারী

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন