ফ্রান্সে ১৩ জুন করোনা শনাক্ত হয়েছিল ২২৪ জনের, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্যারিসের রেমন্ড-পয়েনকার হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বেঞ্জামিন দাভিও বলেন, উষ্ণ আবহাওয়ার পরও করোনা সংক্রমণ আবারও বেড়েছে।

দাভিও আরও বলেন, ‘অমিক্রনের উপধরন বিএ.৪ ও বিএ.৫ ছড়াচ্ছে বেশি। ভাইরাসের এই দুটি উপধরনের সংক্রমণ হার ১০ ও ১৫ শতাংশ, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার কথা বলেছেন।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডেমিয়েন মাসক্রেত বলেন, পর্তুগালে করোনার ওই উপধরন দুটির কারণে মৃত্যু বেড়েছে। এক সপ্তাহে দেশটিতে হাসপাতালে ভর্তি বেড়েছে ২৭ শতাংশ ও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে দেশটিতে ছুটির মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় সব ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। শিগগিরই হয়তো করোনা সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

জার্মানিতেও করোনা সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। জুনের প্রথম সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ স্থিতিশীল থাকলেও গত সপ্তাহে তা হুট করে বেড়ে ৭১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

গ্রিসেও গত সাত দিনের গড় সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে। ১৩ জুন যেখানে গড় সংক্রমণ ছিল ৩৭৭ জন, তা এ সপ্তাহে ৬৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইতালিতেও করোনার সংক্রমণ বেড়ে ৩৫৪ জন থেকে ৫৪৯ জনে পৌঁছেছে।

ভারতেও বৃদ্ধির প্রবণতা

এদিকে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতেও করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। গতকাল বুধবার দেশটিতে ১২ হাজার ২৪৯ জনের নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়। এ ছাড়া করোনায় মারা গেছেন ১৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ বেড়েছে ২ হাজার ৩৭৪ জনের। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে করোনা শনাক্তের হার ২ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

বৈশ্বিক করোনা সংক্রমণের তথ্য সংগ্রহকারী ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট করোনা সংক্রমণ ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭৬৪ ছুঁয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৬৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪৮ জনের। দেশ হিসাবে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ কোটি ৮২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ জনের। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৭ জনের। সেখানে মারা গেছেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯০৩ জন। চীনে কিছুদিন সংক্রমণ বাড়লেও এখন তা কমেছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন