ভেনেজুয়েলার কারাকাসে সন্তানকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন এক মা।
ভেনেজুয়েলার কারাকাসে সন্তানকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন এক মা। ছবি: ইউনিসেফ

করোনাভাইরাস মহামারির এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। ৯০ শতাংশ দেশে এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দ্বিতীয় জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের গ্রীষ্মকালে পরিচালিত প্রথম জরিপের তুলনায় পরিস্থিতি খুব বেশি বদলায়নি। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্যই দেওয়া হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি একেবারে হতাশাব্যঞ্জকও নয়। কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ২০২০ সালে পরিচালিত জরিপে দেখা গিয়েছিল, গড়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেক ব্যাহত হয়েছে। আর এ বছরের প্রথম তিন মাসে এক-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়েছে।
অনেক দেশই এখন স্বাস্থ্যসেবার বাধাগুলো কমিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন—এমন রোগীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা জানিয়েছে অর্ধেকের বেশি দেশ। এসব দেশে রোগীদের বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। ঘরে থেকে চিকিৎসাসেবা নেওয়া, চিকিৎসার জন্য কয়েক মাসব্যাপী ব্যবস্থাপত্র ও টেলিমেডিসিনের ব্যবহার বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এটা উৎসাহব্যঞ্জক যে বিভিন্ন দেশ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ইস্যুতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তবে এই ইস্যুতে আরও অনেক কিছু করার রয়েছে।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে আমরা হাম, পোলিও ও অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াইকে অবহেলা করতে পারি না। টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় শিশুস্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জরিপ বলছে, যেসব দেশ মহামারিতে খারাপ পরিস্থিতি শুরুর আগে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেসব দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের হেলথ এজেন্সি বলছে, বিভিন্ন দেশের সরকারকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। এতে অন্যান্য রোগের সেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জরিপ আরও বলছে, এক-তৃতীয়াংশ দেশে প্রয়োজনীয় ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম ও পিপিইর অভাব রয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি দেশে পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, কয়েক লাখ মানুষ এখনো স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত। প্রায় অর্ধেক দেশে করোনার কারণে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন অসুখের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে। ২০ শতাংশ দেশ বলেছে, জীবন রক্ষাকারী জরুরি সেবা, জটিল ও সার্জিক্যাল কেয়ারের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৪৩ শতাংশ দেশে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

স্নায়বিক রোগসহ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া টিবি, এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, ক্যানসার স্ক্রিনিং, হাইপারটেনশন, ডায়বেটিস, পরিবার পরিকল্পনা, জন্মবিরতিকরণ, জরুরি দন্তচিকিৎসা ও অপুষ্টির মতো রোগের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ দেশে টিকাদান কর্মসূচিও ব্যাহত হচ্ছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে আমরা হাম, পোলিও ও অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াইকে অবহেলা করতে পারি না। টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় শিশুস্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, ৪০ শতাংশ দেশে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে ২০২০ সালের তুলনায় এসব দেশের সংখ্যা ১০ শতাংশ কম। স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার এই পরিস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ এবং জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১৫টি দেশের মধ্যে ‘বুস্ট ইনিশিয়েটিভ’ কে জোরদার করার কথা বলেছে। এসব দেশকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে এসব দেশ মহামারি চলাকালে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন