কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ অক্টোবর এমআইসিক্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন যুক্তরাজ্যের সাবেক আমলা ও কূটনীতিক রিচার্ড মুর। এরপর যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো তিনি লন্ডনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। এ সময় গোয়েন্দা কার্যক্রমে এখনকার ও আগামী দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি চীন ও রাশিয়ার এই ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

রিচার্ড মুর বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সিনথেটিক জীববিজ্ঞানে কর্তৃত্ব অর্জনে বেশি বেশি অর্থ লগ্নি করছে। কারণ, তারা জানে, এর মধ্য দিয়ে তারা তাদের উদ্দেশ্য পূরণে সফল হবে।’

বিশ্বজুড়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম দ্রুত মানবকেন্দ্রিক থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকেন্দ্রিক হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার এমন পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে গোয়েন্দাদের। তাঁদের প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে বেইজিং ও মস্কো, এমনটাই মনে করেন রিচার্ড মুর।

চীন ও রাশিয়ার এমন উদ্যোগ এমআইসিক্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে রিচার্ড মুর বলেন, ‘যেহেতু আমরা বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের উৎকর্ষে পরিবর্তন আনতে পারব না, তাই দ্রুত এর সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে হবে।’ এ সময় পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে পরামর্শ দেন তিনি।

যদিও এমআইসিক্স সাম্প্রতিক সময়ে চরম গোপনীয়তার নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত সংস্থাটির প্রধানের নাম প্রকাশ করা হতো না। শুধু প্রকাশ্যে প্রতীকী নাম ‘সি’ ব্যবহার করা হতো। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এমআইসিক্সের প্রধান এখন প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন