বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পামেলার বয়স যখন ৭ বছর, তখন মা ও তাঁর তিন ভাইবোনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমান। তারপর থেকেই দেশটিতে পামেলা ও তাঁর পরিবারের সংগ্রাম শুরু। দেশটিতে আশ্রয় পেতে তাঁকে থাকতে হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে। এরপর তাঁরা কাউন্টি মায়োতে গিয়ে থিতু হন। ওই সময় ছেলে মেয়েদের নিয়ে নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে পামেলার মায়ের। সরকারের দেওয়া ভাতা থেকেই চলত তাঁদের সংসার।

default-image

অতীতের সংগ্রামের কথা ভোলেননি পামেলাও। একজন শরণার্থী হিসেবে আয়ারল্যান্ডে আসা পামেলা আজ দেশটির সেরা সুন্দরী। অতীতের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে পামেলা বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রের জীবন ছিল খুবই অদ্ভুত। আমরা সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদের কাজ করার অনুমতি ছিল না। ওই সময়টা আমার মায়ের জন্য কঠিন ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বেড়ে ওঠাটাও অদ্ভুত। বন্ধুদের বাসায় আসাকে আমি সত্যিই অপছন্দ করতাম। কারণ, আমার এই কষ্টের জীবন তাদের দেখাতে চাইনি।’

অত্যন্ত মেধাবী পামেলা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়ার সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি আয়ারল্যান্ডের বন্দরনগর গালওয়ের একটি হাসপাতালে কর্মরত। আয়ারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম রেডিও নিউজবিটকে পামেলা বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে আমি একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছি। এটা আমার জীবনের জন্য বড় কিছু।’

default-image

পামেলার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আসাটাও অদ্ভুত। তিনি আরও বলেন, মিস গালওয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় একটি পানশালায় কাজ করার সময় তিনি ওই প্রতিযোগিতার মঞ্চে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলেন। তখন একজন বিচারক তাঁকে ওই বছরের একজন প্রতিযোগী হিসেবে ভেবেছিলেন। কিন্তু তিনি তা ছিলেন না। তবে ওই নারী বিচারক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তাঁকে উৎসাহ জুগিয়েছিলেন।

default-image

মডেলিংয়ে অতীতে কোনো অভিজ্ঞতায় ছাড়াই মিস গালওয়ে-২০২০ এ অংশ নেন পামেলা। তখন থেকে তিনি বিভিন্ন মহল থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন বলে জানান পামেলা। এখন তিনি ২০২২ সালে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকোয় অনুষ্ঠিতব্য মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। আশা করছেন, ওই প্রতিযোগিতায় তিনি ভালো করবেন।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন