জার্মানিতে মাস্ক পরতে বলায় গুলি করে হত্যা
দোকানে ঢোকার সময় মাস্ক পরার অনুরোধ করায় জার্মানিতে এক যুবকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার রাইনল্যান্ড ফ্যালৎস রাজ্যের ছোট শহর ইডার-ওবারস্টাইনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ২০ বছরের যুবক পড়াশোনার পাশাপাশি একটি পেট্রলপাম্পে চাকরি করতেন।
সরকারি কৌঁসুলি কাই ফুহরমান গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিষয়ে বলেন, গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে প্রায় ১০ মিনিট চলার পর ইডার-ওবারস্টাইন শহরের আরাল গ্যাস স্টেশনে হাজির হন এই অপরাধী। কোনো মাস্ক ছাড়াই দৌড়ে গ্যাস স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে ১২ বিয়ারের ২টি প্যাকেট চান তিনি। মাস্কবিহীন অবস্থায় দোকানে প্রবেশের কারণে ক্যাশ কাউন্টারে কর্মরত ২০ বছর বয়সী ছাত্রটি তাঁর কাছে বিয়ার বিক্রি করতে অস্বীকার করেন। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই ব্যক্তি মাস্ক পরে আসেন। তিনি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে গিয়ে মাস্ক খুলে ফেলেন। কাউন্টারে কর্মরত যুবক আবার তাঁকে মাস্ক পরতে অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মাথায় গুলি করেন ওই আততায়ী।
ঘটনার পরদিন সকালেই পুলিশ ওই আততায়ীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সরকারি কৌঁসুলি বলেন, ৪৯ বছর বয়সী মারিও নামের ওই আততায়ী একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার। অভিযুক্ত অপরাধী মারিও অপরাধ স্বীকার করে বলেন, তিনি পেট্রলপাম্পে কাজ করা সেই যুবককে আগে থেকে চিনতেন না।
ওই আততায়ী আরও জানান, করোনা মহামারির কারণে দেওয়া যাবতীয় বিধিনিষেধ ও নিয়ম তিনি মানেন না। এসব স্বাস্থ্যবিধি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এই মহামারি তাঁর কাছে একটি বোঝা বলে মনে হয়।
সরকারি কৌঁসুলি কাই ফুহরমান আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তিনি অনেক আগে থেকেই করোনার বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতেন। তিনি উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
এর আগে ইডার-ওবারস্টাইন শহরে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। টিকাকেন্দ্রগুলোতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। সাংবাদিকদের ভয়ও দেখানো হয়েছে।
২০১৯ সালে করোনা মহামারির শুরু থেকেই ‘কয়ার ডেঙ্কার’ বা ‘বিকল্প চিন্তা’ নামের একটি গ্রুপ করোনাকালীন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে মিছিল–মিটিং ও প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এ গ্রুপের অধিকাংশ সদস্যই কট্টরপন্থী রাজনীতির অনুসারী। ইডার-ওবারস্টাইন শহরের এই আততায়ীও এ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। তিনি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।