default-image

বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনে একজন নারী যৌন হয়রানি অথবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রতিবেদনে নারীরা বেশি সহিংসতার শিকার হন, এমন ছয়টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপে নারীদের সহিংসতার শিকার হওয়ার হার সবচেয়ে কম। সেখানে ২৩ শতাংশ নারী সহিংসতার শিকার হন।

রয়টার্স ও আল জাজিরার খবরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হয়, কিরিবাতি, ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে নারীদের সহিংসতার শিকার হওয়ার ঘটনা বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সব খবর প্রকাশিত না হওয়ায় নারীদের প্রতি সহিংসতার প্রকৃত তথ্য জানা কঠিন।

বিজ্ঞাপন

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও সহিংসতা রোধের জন্য ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সহিংসতার শিকার নারীদের অবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে নারী ও শিশুরা ফাঁদে পড়ে সহিংসতার শিকার হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৩১ শতাংশ, অর্থাৎ ৮৫ কোটি ২০ লাখের মতো নারীর শারীরিক নির্যাতন অথবা যৌন সহিংসতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এত বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের গবেষণা এর আগে হয়নি। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালানো বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে এ গবেষণা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, নারী সহিংসতা রোধে মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য ছেলেদেরকে স্কুলেই মেয়েদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দেওয়া উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, প্রতিটি দেশ ও সংস্কৃতিতে নারীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সহিংসতার শিকার হয়ে লাখ লাখ নারী ও তাঁদের পরিবারের ক্ষতি হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দরিদ্র দেশগুলোতে স্বামী অথবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমেই নারী বেশি সহিংসতার শিকার হন। প্রতি চারজনে একজন নারী ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমেই সহিংসতার শিকার হন। অনেক সময় ১৫ বছর বয়স থেকে যৌন হয়রানির ঘটনা শুরু হয়।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জেন্ডার ভায়োলেন্স অ্যান্ড হেলথ সেন্টারের পরিচালক হেইডি স্টোয়েকেল গবেষণাকাজে অংশ নেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে নারীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় তেমন কোনো বদল আসেনি।

স্টোয়েকেল বলেন, লিঙ্গসমতা রক্ষায় আইন পরিবর্তন করা প্রয়োজন। নারীরা যেসব আর্থসামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, তা রোধের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুরো ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় লকডাউনে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের নির্যাতনকারী পুরুষের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে সহিংসতার মাত্রাও বেড়েছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বলছে, কলম্বিয়ায় লকডাউনে যৌন সহিংসতার ঘটনা আগের বছরের তুলনায় ১৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন