এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ক্রেমলিনের আর্চেঞ্জেল ক্যাথেড্রালে ধর্মীয় ভাষণে প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল দাবি করেছেন, রাশিয়া কখনো অন্য কোনো দেশে হামলা চালায়নি। বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাই না। রাশিয়া কখনো কাউকে আক্রমণ করেনি।’

প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর যে একটি বিশাল ও শক্তিশালী দেশ কখনো কাউকে আক্রমণ করেনি। দেশটি কেবল তার সীমান্তগুলো রক্ষা করেছে।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ হামলার পর থেকেই ইউক্রেনীয়দের দুর্দশায় অনুশোচনা করে আসছেন পোপ। রাশিয়াকে সরাসরি আগ্রাসী না বলে তিনি এই আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন। ভ্যাটিকানের ঐতিহ্যগত নিরপেক্ষতা এবং রুশ অর্থোডক্স চার্চের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার ব্যক্তিগত বিষয়টি এতে প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে ভ্যাটিকানকে একই কাতারে দাঁড় করাতে অনিচ্ছুক তিনি।

সাক্ষাৎকারে পোপ বলেন, ‘ইউক্রেনের সংঘাত অন্য দেশগুলো সৃষ্টি করেছে।’ তবে তিনি কোনো দেশের নাম বলেননি। এই যুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য সংঘাতকে যুক্ত করে পোপ বলেন, আন্তর্জাতিক স্বার্থেই প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে—‘সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, আফ্রিকায় একের পর এক যুদ্ধে।’

ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা বলেন, ‘আমি জানি না কী বলব— ইউক্রেনীয়দের অস্ত্র সরবরাহ সঠিক কি না, সে কথা বলা থেকে আমি অনেক দূরে আছি।’ পোপ বলেন, ‘যেটা স্পষ্ট তা হলো, এই ভূমিতে অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে...এ জন্যই যুদ্ধগুলো হয়—আমরা যে অস্ত্রগুলো বানিয়েছি সেগুলো পরীক্ষা করতে।’

এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের এই সংঘাতকে ‘ভ্রাতৃঘাতী’ বলায় পোপের সমালোচনা করেছে কিয়েভ। তারা বলছে, এতে রাশিয়ার আগ্রাসনকে খাটো করে দেখা হচ্ছে।

শান্তির আহ্বান জানাতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে মস্কো যেতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান পোপ। তবে ক্রেমলিন তার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। পোপ বলেন, যুদ্ধ শুরুর সময় ভ্যাটিকানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তিনি বলেছিলেন, ‘দয়া করে থামো।’