মার্চের শুরুর দিকে আর্মেনিয়ায় পৌঁছায় পরিবারটি। এসে দেখেন, হাজারো রুশ তাঁদের আগেই সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন। এর পর থেকে সেখানে আরও অনেককে আসতে দেখেছেন তাঁরা। নিপীড়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকে রাশিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন গ্রিনস্তেইন ও তাঁর পরিবার। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, পুতিন তাঁদের ‘অবাঞ্ছিত’ ও ‘জাতীয় বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। স্তালিন যুগে শুদ্ধি অভিযানে এ গালি ব্যবহৃত হতো।

নতুন করে রুশদের অভিবাসী হওয়ার সংখ্যা ব্যাপক এবং তা বাড়ছেই। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার কেবল প্রথম ১০ দিনেই ২ লাখ নাগরিক রাশিয়া ছেড়েছেন
কোনস্তান্তিন সোনিন, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর রুশ বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ

ঘরবাড়ি ও চাকরি ছেড়ে আসা কমপক্ষে দুই লাখ রুশের মধ্যে গ্রিনস্তেইনরা কয়েকজন। ইউক্রেনে ক্রেমলিনের হামলার বিতৃষ্ণা থেকে তাঁরা ঘরবাড়ি ও চাকরি ছেড়ে এসেছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রতি নিজ দেশের মানুষের উৎসাহী মনোভাবের কারণে এমন বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছে।

default-image

কলামিস্ট লিওনিড বেরশিদস্কি মধ্য মার্চে লিখেছেন, ‘তাঁরা পুতিনের সঙ্গে ভুয়া সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্পের জন্য কিছু করতে চান না। তাঁরা যুদ্ধাপরাধে জড়াতে চান না। আর অন্যরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। কারণ, তাঁরা সোভিয়েত ধরনের স্বৈরশাসনের অধীন বসবাসের বিষয়টি কল্পনা করতে পারেন না, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার ধ্বংস অবধারিত।’

ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালের শুরুর দিকে অধিকাংশ রুশই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় অভিবাসী হতেন। কিন্তু ২০১৪ সালের পর সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশগুলোতেই বেশি যেতে শুরু করেন তাঁরা।

আগ্রাসন–পরবর্তী পলায়ন

ইউক্রেনে আগ্রাসন–পরবর্তী রুশদের দেশত্যাগের এটি সর্বশেষ ঘটনা হয়তো। তবে এটাকে লাখো মানুষের দেশ ছেড়ে যাওয়া বলা যাবে না। এসব মানুষ পুতিনের শাসনের অধীন বসবাস করতে চান না। পুতিন ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ‘টকি ডেলা’ ম্যাগাজিনের প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এরপর ২০২০ সাল নাগাদ ৪০ থেকে ৫০ লাখ রুশ দেশ ছেড়েছেন।

জরিপের ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজাখস্তান থেকে কানাডা—বেশ কয়েকটি দেশের দাপ্তরিক তথ্য-উপাত্ত থেকে এ পরিসংখ্যান নেওয়া হয়েছে। আবাসিক নিবন্ধন বাতিল করা লোকজনের বিষয়ে রাশিয়ার দেওয়া পরিসংখ্যানও হিসাবে ধরা হয়েছে।

ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালের শুরুর দিকে অধিকাংশ রুশই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় অভিবাসী হতেন। কিন্তু ২০১৪ সালের পর সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশগুলোতেই বেশি যেতে শুরু করেন তাঁরা।

default-image

নতুন করে রুশদের অভিবাসী হওয়ার সংখ্যা ব্যাপক এবং তা বাড়ছেই। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার কেবল প্রথম ১০ দিনেই ২ লাখ নাগরিক রাশিয়া ছেড়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর রুশ বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ কোনস্তান্তিন সোনিন এ হিসাব দিয়েছেন।

টুইটারে সোনিন লেখেন, ‘এক শতকের মধ্যে এমন মর্মান্তিক দেশত্যাগের ঘটনা দেখা যায়নি।’ দেশত্যাগের চলমান এ অবস্থাকে ‘শ্বেতাঙ্গ অভিবাসনের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের পর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সাবেক রুশ সাম্রাজ্য ছেড়ে যান। তাঁরা জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও চীনে পাড়ি জমান। অভিবাসীদের মধ্যে ছিলেন ঔপন্যাসিক ভ্লাদিমির নাবোকভ, গীতিকার ইগর স্ত্রাভিনস্কি এবং ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া হেলিকপ্টার ডিজাইনার ইগর সিকোরস্কি।

জরিপে দেখা যায়, অভিবাসী হওয়া রুশদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। এক-তৃতীয়াংশ সব ধরনের ব্যবস্থাপনায় দক্ষ। বাকিরা দাপ্তরিক কর্মী ও ডিজাইনার, ব্লগার ও সাংবাদিকের মতো সৃজনশীল ফ্রিল্যান্সার।

আজকাল অভিবাসন দ্রুততর ও তুলনামূলক অনেক সহজ, বিশেষ করে ডিজিটাল পরিভ্রমণকারীদের জন্য, যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্রডব্যান্ড ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায়।

মধ্য মার্চে ‘ওকে রাশিয়ানস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দুই হাজার অভিবাসীর ওপর একটি জরিপ চালায়। সদ্য যাত্রা শুরু করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি অভিবাসীদের সহায়তা করে থাকে। জরিপে দেখা যায়, অভিবাসী হওয়া রুশদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। এক-তৃতীয়াংশ সব ধরনের ব্যবস্থাপনায় দক্ষ। বাকিরা দাপ্তরিক কর্মী ও ডিজাইনার, ব্লগার ও সাংবাদিকের মতো সৃজনশীল ফ্রিল্যান্সার।

জরিপে বলা হয়, ১৬ মার্চ নাগাদ তিন লাখ রুশ দেশ ছেড়ে গেছেন। তাঁদের অধিকাংশই জর্জিয়া, তুরস্ক ও আর্মেনিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। অন্যরা আরও বিচিত্র সব দেশে অভিবাসী হয়েছেন।

দুই যুদ্ধ

যুদ্ধ যখন শুরু হয়, লিওনিড শমেলকভ তখন শ্রীলঙ্কায় অবকাশ যাপন করছিলেন। ৩৯ বছর বয়সী এই অ্যানিমেটরের ‘মাই ওউন পারসোনাল মুস’ গ্র্যামির ২০১৪ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ পুরস্কার জেতে। তিনি শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের অনেক বন্ধুকেও তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে বলেছেন।

শ্রীলঙ্কায় ঠিকমতো ওয়েবসাইটে ঢুকতে না পারা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না থাকা সত্ত্বেও শমেলকভ ও তাঁর বন্ধুরা অনেক দূরের একটি প্রকল্পের কাজ করছেন। তাঁরা শিখেছেন ঠিকমতো ওয়েবসাইটে ঢুকতে না পারা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না থাকা একটি দ্বীপে বসবাসে কীভাবে অভ্যস্ত হতে হয়।

শমেলকভ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শ্রীলঙ্কার পর্যটননির্ভর অর্থনীতি ধসে পড়েছে। হাজারো রুশ পর্যটককে দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, এটা ব্যবসার জন্য ভালো।

সংঘাতের বিষয়ে শমেলকভের বক্তব্য, মস্কো কেবল কিয়েভের সঙ্গেই যুদ্ধে লিপ্ত নয়। তাঁর মতে, জার্মানির নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়ে সোভিয়েত বাহিনীর ভূমিকাকে ফুলিয়ে–ফাঁপিয়ে দেখানোর প্রচারণাই এই ‘যুদ্ধের সংস্কৃতিতে’ ঠেলে দিয়েছে। রাশিয়ায় বর্তমান যুদ্ধ উন্মাদনার ক্ষেত্রে আগের এ প্রভাব কাজ করেছে।

শমেলকভ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা একধরনের যুদ্ধের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়েছি, যুদ্ধের খুবই ভুল সংস্কৃতিতে। এই বোধ থেকে নয় যে চলো সবকিছু করি, যাতে এটার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রুশ সরকার দুটি যুদ্ধ শুরু করেছে—একটি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে, আর অন্যটি রাশিয়ার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে।’

অরওয়েল নয়, এটা কিং

রাশিয়ার শেষ স্বাধীন জরিপ সংস্থা লেভাদা সেন্টার। সংস্থাটি ৪ মার্চ একটি জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ রুশই ‘গর্ব, উৎসাহ অথবা উচ্ছ্বাস’ বোধ করছে। মাত্র ১৮ শতাংশ এ যুদ্ধে ‘ক্ষোভ, লজ্জা অথবা হতাশা’ বোধ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মস্কোর এক বাসিন্দা আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলেন। জর্জ অরওয়েলের কল্পরাজ্যবিরোধী ‘১৯৮৪’–এর চেয়ে তিনি রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে স্টিফেন কিং ভৌতিক উপন্যাসের মতো বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশ জম্বিতে ভরে গেছে। কেউ তাদের বাধ্য করছে না, তারা নিজেরা স্বেচ্ছায় যুদ্ধ সমর্থন করছে আনন্দের সঙ্গেই। এটা অরওয়েল নয়, এটা কিং।’

ওই নারী বলেন, প্রায় সারাক্ষণই টেলিভিশনগুলোতে প্রচারণা চালাচ্ছে রুশ সরকার। যুদ্ধের সমর্থকদের মন ও মানসিকতায় এর প্রভাব পরমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বিধ্বংসী। তিনি আরও বলেন, ‘এটা সবাইকে এবং সবকিছুকে শেষ করে দিচ্ছে, সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বলা হচ্ছে। বছরের পর বছর, একের পর এক জালিয়াতি হচ্ছে।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধের হাজারো সমালোচককে কারাবন্দী করা হয়েছে, হয়রানি করা হয়েছে। তাঁদের বাসাবাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁরা অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। এমনকি অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

নতুন কাল্পনিক শত্রু খুঁজে বের করার প্রবণতা ভিন্নমত দমনে পুতিনের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। মধ্য মার্চে তিনি বলেছিলেন, ‘অবাঞ্ছিত’ ও ‘জাতীয় বিশ্বাসঘাতকদের’ বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালানো উচিত।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা নরওয়েজিয়ান হেলসিঙ্কি কমিটির জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইভার ডেল বলেছেন, ‘দুই দশক ধরে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য দমন–পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রয়োজনীয় মন্দ কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুতিন সরকার দুটির কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি।’

ইভার ডেল আল-জাজিরাকে বলেন, ‘রুশ সমাজে ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা মেধাবীদের তাঁদের পরিবারের ভালোর জন্য দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে।’

‘আমাদের চারপাশ জম্বিতে ভরে গেছে। কেউ তাদের বাধ্য করছে না, তারা নিজেরা স্বেচ্ছায় যুদ্ধ সমর্থন করছে আনন্দের সঙ্গেই। এটা অরওয়েল নয়, এটা কিং।’
মস্কোর এক বাসিন্দা

যুদ্ধ উন্মাদনা

ইয়েরেভানের নতুন বাসিন্দা গ্রিনস্তেইনের পেশাগত ও ব্যক্তিগত ইতিহাস যেন রাশিয়ায় নিপীড়নের বিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র আর টেলিভিশন শোর জন্য চিত্রনাট্য লিখেছেন মস্কোর ৫১ বছর বয়সী এই বাসিন্দা। তবে কম জনপ্রিয় একটি লেখার কারণে কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়েন তিনি। ২০১১ সাল থেকে রাশিয়ার সবচেয়ে রাজনৈতিক, নিপীড়িত ও স্পষ্টভাষী থিয়েটার ‘তিয়তর ডট ডক’–এর জন্য লিখে আসছেন তিনি।

গ্রিনস্তেইন এলজিবিটিকিউ রাশিয়ান ও মুসলিম অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন এবং সোভিয়েত সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতার বর্ণনা আছে, এমন সাক্ষাৎকার ও তথ্যের ওপর নাটক লিখতেন। কয়েক বছর ধরে ‘তিয়তর ডট ডক–এর সদস্যদের হুমকি, গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে তাদের স্বল্প বাজেটের এসব নাটক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং পুরস্কার জিতেছে।

যখন ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়, গ্রিনস্তেইন তাঁর পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এ সংঘাতের বিপক্ষে সোচ্চার করতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁর এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ, তাঁদের অনেক চলচ্চিত্র সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল।

গ্রিনস্তেইনের নিজের পারিবারিক ইতিহাস রুশ সমাজের নতুন বিভাজনের যথার্থ উদাহরণ। সাবেক সোভিয়েতের সঙ্গে এর বেশ তফাত নেই। বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের লুহানস্কে বসবাস করেন তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি। তাঁর স্বামী ভিক্টর পুতিন যুদ্ধের সমর্থক মা–বাবার সঙ্গে খুব কমই কথা বলেন। তাঁদের মেয়ে তোনিয়া দেখছেন, কীভাবে ক্রেমলিনের যুদ্ধ প্রচারণা তাঁর দাদা-দাদিকে প্রভাবিত করেছে। তাঁরা এ আগ্রাসনে অনেকটাই খুশি। গ্রিনস্তেইন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সে (তাঁর কন্যা) তাঁদের চেয়ে বেশি আতঙ্কিত।’

গ্রিনস্তেইনের সাম্প্রতিক আর্মেনিয়ায় পৌঁছানোর সঙ্গে আরেক যুদ্ধে এক প্রজন্ম আগে তাঁর পরিবারের বাস্তুচ্যুত হওয়ার মিল আছে। তিনি ১৯৭১ সালে তৎকালীন সোভিয়েত আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এক আর্মেনীয় ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনে অভিজাত একটি জামা পরে অংশগ্রহণ এবং সাঁজোয়া যানের সেনাদের পাশ কাটিয়ে বাড়িতে ফেরার দিনটির স্মৃতিচারণা করেন তিনি।

নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আজেরি-আর্মেনীয় উত্তেজনার সময় মস্কো সেনা মোতায়েন করে। চার বছর পর এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। আর্মেনীয় বিরোধী পদক্ষেপের মুখে পড়ে গ্রিনস্তেইনকে একটি নামকরা ফিল্ম স্কুলে পড়তে আর্মেনিয়ায় চলে যেতে হয়। পরে সেখান থেকে মস্কোয় পাড়ি জমান তিনি।

গ্রিনস্তেইন উপলব্ধি করতে পারছেন, তাঁর যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের পরও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের জন্য তাঁর পরিবারকে দোষারোপ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষেরা ইহুদি হওয়ায় নিপীড়িত হয়েছেন। এরপর আর্মেনীয় হওয়ায়। ভবিষ্যতে আমরা নিপীড়িত হব রুশ হওয়ার কারণে।’

জার্মানিতে যাওয়ার পরিকল্পনার প্রস্তুতি থেকে তাঁকে প্রবোধ দিয়ে রেখেছে আর্মেনীয়দের ‘অগাধ আতিথেয়তা’ আর ইয়েরেভান থেকে আর্মেনিয়ার সবচেয়ে পবিত্র পাহাড়ের দৃশ্য। গ্রিনস্তেইন বলেন, ‘আমার বাসার জানালা দিয়ে আমি মাউন্ট আরারাত দেখতে পাই। আর এটা প্রেরণার।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন