ভালো স্মৃতিশক্তি যে ‘মাছের’
কোনো ঘটনা মৃত্যুর কয়েক দিন আগপর্যন্তও মনে রাখতে পারে কাটলফিশ। নামের সঙ্গে ‘ফিশ’ থাকলেও এটা কিন্তু মাছ নয়। একধরনের সামুদ্রিক এই প্রাণীর স্মৃতিশক্তি নাকি মানুষের চেয়েও ভালো! নতুন এক গবেষণায় এমন দাবিই করা হয়েছে। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বিতে প্রকাশিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স বেশি হয়ে গেলেও বিশেষ কোনো ঘটনার স্মৃতিশক্তি কোনো প্রাণীর মধ্যে লোপ পায় না, এমন প্রমাণ প্রথম পেলেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক এই গবেষণা পরিচালনা করেন।
গবেষকেরা প্রথমে ২৪টি কাটলফিশ নির্বাচন করেন। এর মধ্যে ১২টির বয়স ১০-১২ মাস (অপ্রাপ্তবয়স্ক)। বাকি ১২টির বয়স ২২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে। এই কাটলফিশের বয়স মানুষের বয়সের ৯০ বছরের সমান। প্রাণীগুলোর স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা করতে সাদা ও কালো কাপড় দিয়ে চিহ্নিত দুটি স্থানে রাখা হয় তাদের খুব পছন্দ ও কম পছন্দের খাবার। একটি স্থানে রাখা হয় কম পছন্দের খাবার কিং চিংড়ির টুকরা। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর এই খাবার দেওয়া হয়। অপর স্থানে রাখা হয় পছন্দের জীবন্ত গ্রাস চিংড়ি। এই খাবার দেওয়া হয় প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর। এভাবে চার সপ্তাহ ধরে কাটলফিশগুলোকে খাবার দেওয়া হয়। তবে প্রথমে কী খাবার খেয়েছিল, প্রাণীগুলো তা মনে রাখতে পেরেছে কি না, সেটা পরীক্ষা করতে প্রতিদিনই আলাদা আলাদা স্থানে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এই গবেষণা ফলাফলে দেখা গেছে, পছন্দের খাবার বাছাইয়ে কম বয়সী কাটলফিশের তুলনায় বেশি বয়সীরা অনেক বেশি ভালো করেছে। স্থান ও চিহ্ন পরিবর্তন করা হলেও সবচেয়ে পছন্দের খাবারটি বেছে নিতে অসুবিধা হয়নি প্রাণীগুলোর।
গবেষণা প্রতিবেদনের প্রথম লেখক ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আলেকজান্ডার স্নেল বলেছেন, কাটলফিশ কী খেয়েছে, কোথায় খেয়েছে, কখন খেয়েছে—সব মনে রাখতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, বয়স বাড়লেও প্রাণীগুলো স্মৃতিশক্তির সক্ষমতা হারায়নি। তবে বয়স বাড়ার কারণে শারীরিক কর্মক্ষমতা ও খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমার তথ্য পাওয়া গেছে।