রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল ফ্রান্সে নির্বাচনে প্রথম পর্বের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেবার গণনা হওয়া ৯৭ শতাংশ ভোটের মধ্যে মাখোঁ পান ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অপর দিকে লঁ পেনের দখলে ছিল ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। প্রথম পর্বে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী ছিলেন ১২ জন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পর্বের ভোটে শীর্ষ দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নেন।

আজ স্থানীয় সময় সকাল আটটায় শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ। শেষ হবে রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা)। এর পরই ভোটের ফল সম্পর্কে আভাস পাওয়া যাবে।

এদিকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার। সে হিসাবে প্রথম চার ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কম। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছিল।

এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়া না–দেওয়া নিয়ে যাঁদের মাথাব্যথা নেই, তাঁদের একজন হুগো উইন্টার। রাজধানী প্যারিসের এই বিক্রয়কর্মীর মতে, রাজনীতিবিদেরা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন না।

তবে মাখোঁর পক্ষে ভোট দিয়েছেন আন্দ্রে ললেট নামে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের দুয়াই শহরের এক বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁর (মাখোঁ) কিছু দোষ থাকলেও পাশাপাশি গুণও রয়েছে।’ গত ১০ এপ্রিলও মাখোঁকে ভোট দিয়েছেন তিনি।

অপর দিকে মাখোঁর ব্যাপারে নিরাশ হয়ে লঁ পেনকে বেছে নিয়েছেন প্যাসকেল পলোইন। ফ্রান্সের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের লঁ মানস শহরের নিকটবর্তী সুইলে গ্রামের এই বাসিন্দা বলেন, ‘সত্যি বলতে গেলে, আমি খুবই হতাশ। বছরের পর বছর ধরে ফ্রান্সে ভালো কিছু হচ্ছে না। মধ্যবিত্তদের জন্য মাখোঁ কিছুই করেননি। তাঁদের সঙ্গে ধনীদের ফারাকটা বেড়েই চলেছে।’

জনমত জরিপ বলছে, মাখোঁ ৫৩ থেকে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হবেন। একই রকম আভাস দিয়েছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান হ্যারিস ইন্টারঅ্যাকটিভের কর্মকর্তা জ্যঁ–ড্যানিয়েল লেভি। তাঁর মতে, জনমত জরিপের হিসাব–নিকাশ অনুযায়ী, ভোটারদের মনোভাবে বড় কোনো পরিবর্তন না এলে লঁ পেনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

দ্বিতীয় পর্বের ভোটে মাখোঁ উতরে গেলে ২০ বছরের মধ্যে একমাত্র ফরাসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন। আর এমনটি হলে দ্বিতীয় মেয়াদ মাখোঁর জন্য মোটেও সুখের হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মাখোঁর নেওয়া ব্যবসায়ীপন্থী নানা পরিকল্পনার জেরে বিক্ষোভ শুরু হতে পারে। অপর দিকে লঁ পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তাঁকে ফ্রান্সের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। এর জেরেও শিগগিরই শুরু হতে পারে বিক্ষোভ।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মাখোঁ কিংবা পেন—যে–ই ক্ষমতায় আসুন না কেন, তাঁদের সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে আগামী জুনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করা।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন