বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুলিভরা অস্ত্রসহ ফ্রাঙ্কোকে আটক করা হয়েছিল। এরপর চলেছে দীর্ঘ তদন্ত। তদন্তে বলা হয়েছে, ফ্রাঙ্কো ২০১৬ সালেই নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে সিরীয় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চেয়ে নাম নিবন্ধনের আবেদন করেছিলেন। এর আগের বছর জার্মানিতে সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে প্রায় ৯ লাখ শরণার্থী আশ্রয় পায়।
আবেদনে তিনি নিজের নাম ব্যবহার করেছিলেন ডেভিড বেনজামিন। বলেছিলেন, তিনি জার্মান ভাষা জানেন না। তবে ফরাসিতে কথা বলতে পারেন। শরণার্থী হিসেবে বসবাসের অনুমতি পেতে সরকারি শুনানিতে তিনি দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলেছিলেন।

এর জেরে তিনি শরণার্থী হিসেবে জার্মানিতে সাময়িক বসবাসের অনুমতি পান। অথচ ওই সময় তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর ফ্রাঙ্কো–জার্মান ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন।
শরণার্থী সেজে রাজনীতিবিদদের ওপর হামলার এ পরিকল্পনাকে ‘ভয়াবহ অবস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন ওই সময়ের জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইউরোপীয় কমিশনের বর্তমান প্রধান উরসুলা ভন দের লিয়েন। তিনি বলেন, ‘অস্ত্রের ওপর থাকা আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে আমরা এর সঙ্গে সিরিয়া থেকে আসা একজন শরণার্থীর আঙুলের ছাপের মিল খুঁজে পাই। এভাবেই ধরা পড়ে যান ফ্রাঙ্কো।’

আটকের পর ফ্রাঙ্কো যেই জার্মান সেনাঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন, সেখান থেকে নাৎসিদের স্বস্তিকাচিহ্ন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জার্মান সেনাপ্রতীক উদ্ধার করা হয়। যদিও জার্মান সেনা ব্যারাকে নাৎসিদের যেকোনো চিহ্ন বা প্রতীকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জার্মান সরকার।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফ্রাঙ্কো। ফ্রাঙ্কফুটে আদালতে হাজিরের সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে আপনাদের বলতে চাই, আমি মোটেও উগ্র ডানপন্থী নই। অন্যের ক্ষতি করার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন