বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মস্কোকে শায়েস্তা করতে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। কিন্তু বেশ কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে সম্মত নয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়াকে সুইফট থেকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশটির ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে এর প্রভাব পড়বে। তবে এর প্রভাব শুধু রাশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্ষতির মুখে পড়বে অন্য দেশও। রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস ক্রেতা দেশগুলো পড়বে ঝুঁকিতে।

ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক নীতির প্রধান জোসেপ বোরেল বলেন, গত শুক্রবারের বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের চিন্তা ছিল সুইফট থেকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করা। কিন্তু তাঁরা একমত হতে পারেননি। বোরেল বলেন, পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সুইফট ব্যবহার বন্ধ করতে চায়। কিন্তু সুইফট সিস্টেম যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে নয়। এটা একতরফা সিদ্ধান্ত নয়।’

শুক্রবার বৈঠকের আগে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালেনা বেয়ারবক বলেন, এ মুহূর্তে রাশিয়াকে সুইফট থেকে নিষিদ্ধ করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

এর আগে ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও বলা হয়, সুইফট থেকে মস্কোকে নিষিদ্ধ করা সর্বশেষ পদক্ষেপ হতে পারে।

রয়টার্স জানায়, সুইফট থেকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। তবে সিদ্ধান্ত পরে পরিবর্তনও হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কেন এখনো এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, রাশিয়ার ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার যে প্রভাব পড়বে, তা রাশিয়াকে সুইফট থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেয়েও বেশি। তা ছাড়া বাড়তি এ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলো একমত হতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, ‘এটা সব সময়ই একটা পথ। কিন্তু এ মুহূর্তে বাকি ইউরোপ এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।’

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ইইউর কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, বিভিন্ন দিক থেকে আহ্বান জানানো হলেও সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তারা একমত হতে পারেনি।

রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সহযোগী জার্মানি। দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ এ মুহূর্তে এর বিরোধিতা করেছেন। তবে পরে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সুইফট নিয়ে পশ্চিমারা কেন দ্বিধাবিভক্ত

সুইফট থেকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করা হলে রাশিয়াকে থেকে পণ্য কেনাবেচা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপদে পড়বে জার্মানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান তেল ও জ্বালানি সরবরাহকারী রাশিয়া। ইইউর জন্য বিকল্প খুঁজে বের করা সহজ হবে না। ইতিমধ্যে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। অনেক দেশ আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার বিপক্ষে।

রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশটির আর্থিক সংস্থাগুলোকে অর্থ পরিশোধের বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে। অনেকেই বলছেন, এতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি বাড়বে।

রাশিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী অ্যালেক্সি কুদরিন বলেন, সুইফট থেকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশটির অর্থনীতি ৫ শতাংশ কমতে পারে।

তবে রাশিয়ার অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রাশিয়ার ব্যাংকগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়নি, এমন দেশগুলোর মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চীন। দেশটির নিজস্ব লেনদেনব্যবস্থা রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার জন্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে বাইডেনের ওপর কিছু চাপ রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, তাঁর পছন্দ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা, যা রাশিয়ার অর্থনীতিতে আঘাত হানবে। এ ছাড়া সুইফটে নিষেধাজ্ঞা দিতে ইউরোপের সরকারের সমর্থন লাগবে। নিজস্ব অর্থনীতির ক্ষতির ভয়ে অনেক দেশ সে অনুমতি দেবে না।

এদিকে ইউরোজোনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর রয়টার্সকে গতকাল জানিয়েছেন, সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থা থেকে রাশিয়া বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিন লাগবে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন