বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোটাভুটির মাধ্যমে এসব অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সেখানে হামলার ঘটনা ঘটলে মস্কো দাবি করতে পারবে, পশ্চিমাদের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

চলতি গণভোটের ফল রাশিয়ার পক্ষে গেলে ইউক্রেনের আরও ১৫ শতাংশ এলাকা এই ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর আগেও গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ঘটনা ঘটে। সেটা ২০১৪ সালে।

সে বছর পুতিনের নির্দেশে প্রথমে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। পরে সেখানে গণভোটের আয়োজন করা হয়। রাশিয়ার ওই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এবারও এই ভোটকে ‘অবৈধ ও ভাঁওতাবাজি’ আখ্যা দিয়েছে ইউক্রেন ও দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা।

ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার সময় ক্রেমলিনের দাবি ছিল, গণভোটে উপদ্বীপটির ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দা তাদের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। রাশিয়ার মানবাধিকার কাউন্সিলের ফাঁস হওয়া একটি প্রতিবেদনে অবশ্য উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। ওই প্রতিবেদন বলা হয়, ক্রিমিয়ায় গণভোটে মাত্র ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটার রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার যুক্ত করার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

পশ্চিমারা গণভোটকে ‘ভাঁওতাবাজি’ বলছে কেন

ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার সময় ক্রেমলিনের দাবি ছিল, গণভোটে উপদ্বীপটির ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দা তাদের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। রাশিয়ার মানবাধিকার কাউন্সিলের ফাঁস হওয়া একটি প্রতিবেদনে অবশ্য উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। ওই প্রতিবেদন বলা হয়, ক্রিমিয়ায় গণভোটে মাত্র ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটার রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার যুক্ত করার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

রুশ গণমাধ্যমগুলো বলছে, শুক্রবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত চার দিন ভোট নিতে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ব্যালট বক্স নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন। পঞ্চম দিন মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে। কোনো ভোটার নিজ অঞ্চলের বাইরে থাকলেও ভোট দিতে পারবেন। ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে রাশিয়ায় থাকা ইউক্রেনের শরণার্থীদেরও।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইউরি সাক বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, যেসব অঞ্চলে গণভোট হচ্ছে, সেখানকার মানুষ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে চান। এ কারণেই সেখানে এত গেরিলা হামলা হচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চল মুক্ত করতে লড়বে।’

যে চার অঞ্চলে গণভোট হচ্ছে, সেগুলো পুরোপুরি বা আংশিক রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দক্ষিণে খেরসন শহর এখন গণভোট আয়োজনের জন্য নিরাপদ নয়। কারণ, সেখানে ইউক্রেনের সেনাদের প্রতিরোধ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে রুশ বাহিনী। গত সপ্তাহে খেরসনের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ভবনে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

আবার জাপোরিঝঝিয়ার রাজধানী এখনো ইউক্রেনের দখলে। তাই এ অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন তেমন অর্থবহ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। পূর্বে দোনেৎস্কের ৬০ শতাংশ এবং লুহানস্কের বেশির ভাগ মস্কোর দখলে। এই দুই অঞ্চলে মস্কো-সমর্থিত নেতারা বেশ কয়েক মাস ধরেই গণভোট আয়োজন করতে চাচ্ছিলেন। তবে মাত্র তিন দিন আগে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গতকাল গণভোট শুরু হলেও নজরদারির জন্য কোনো স্বাধীন পর্যবেক্ষক নেই। অনলাইনেও অনেক ভোট নেওয়া হবে। তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কী পরিবর্তন আসবে

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইউরি সাক বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, যেসব অঞ্চলে গণভোট হচ্ছে, সেখানকার মানুষ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে চান। এ কারণেই সেখানে এত গেরিলা হামলা হচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চল মুক্ত করতে লড়বে।’

ইউক্রেনের চার অঞ্চল রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হলেও সেখানে ইউক্রেনের হামলা থামার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন রুশ বিশ্লেষক আলেকজান্দার বাউনভ। তিনি বলেন, তবে এই গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চলগুলোর বাসিন্দারা কী চান, সে সম্পর্কে একটি বার্তা পাওয়া যাবে।

এই রুশ বিশ্লেষক বলেন, মস্কো আশা করছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর এসব অঞ্চলে হামলায় নিজেদের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ দেখাবে না পশ্চিমা দেশগুলো।

পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

‘রাশিয়াকে রক্ষা করতে’ নিজেদের হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপরই রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর অর্থ, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলো রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকেও হাঁটতে পারে ক্রেমলিন।

সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি ‘ভয়ংকর সংঘাতের’ দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তাঁর ভাষ্যমতে, রাশিয়া যতই ইউক্রেনের মাটি নিজেদের বলে দাবি করুক, নিজেদের রক্ষায় ইউক্রেনের যে অধিকার, তা তারা কেড়ে নিতে পারবে না।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন