ট্রাম্প খুবই লেনদেননির্ভর, তাঁর সব কথা শুনতে বাধ্য নয় যুক্তরাজ্য: মন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের শ্রম ও অবসরবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফাডেনছবি: রয়টার্স

ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুবই লেনদেন’নির্ভর প্রেসিডেন্ট। ইরান ঘিরে তাঁর দফায় দফায় দাবিগুলোকে সেই প্রেক্ষাপট থেকেই দেখতে হবে। কথাগুলো বলেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের একজন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে লন্ডনের এই মূল্যায়ন অনেকটা অস্বাভাবিক, যা অসংকোচে প্রকাশ করেছেন তিনি।

মিত্রদের মধ্যে যারা হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর এই হুমকির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের শ্রম ও অবসরবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফাডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অনুরোধ মেনে নিতে বাধ্য নয় যুক্তরাজ্য।

ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য ততটা আগ্রহী নয় বলে সমালোচনা করার পর ম্যাকফাডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ‘বাগাড়ম্বর’ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলাদা করে দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না বলে গত রাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও যুক্তরাজ্যের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেন। ইরানের পাল্টা হামলায় প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি সাগরপথে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘শুধু এটাই যথাযথ যে যারাই এই প্রণালির উপকারভোগী, তারা নিশ্চিত করবেন যে সেখানে খারাপ কিছু ঘটবে না। এখানে যদি কোনো সাড়া না থাকে বা সাড়াটি নেতিবাচক হয়, তাহলে আমি মনে করি, এটা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাহিদামতো ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো পদক্ষেপ না নিলে ট্রাম্প কি এই জোটকে সহায়তা দেওয়া কমাতে পারেন? এ প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ মন্ত্রী ম্যাকফাডেন স্কাইনিউজকে বলেন, ‘এটা প্রেসিডেন্টের বিষয়। আপনি যে বক্তব্য উদ্ধৃত করলেন, সেটি তাঁর (ট্রাম্প) চরিত্রকে খুব ভালোভাবে প্রকাশ করেছে।’

ম্যাকফাডেন বলেন, ‘এটা খুবই লেনদেননির্ভর প্রেসিডেন্সি এবং আমাদের কাজ হলো এর মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বন্ধুত্ব খুবই গভীর। এটা খুবই ভালো একটা সম্পর্ক।’

যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বদলে যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ থেকে এই পরিকল্পনা করছে দেশটি।