রোগীর প্রয়োজনে অনেক মানুষ নিয়মিত রক্ত দেন। গবেষকেরা বলছেন, মানুষের রক্তদানের এই পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে পরীক্ষাগারে তৈরি রক্ত ব্যবহার করার উদ্দেশ্য নয় তাঁদের। প্রতিদিন রোগীর জন্য অনেক রক্তের প্রয়োজন পড়ে। এ জন্য রক্তদাতার ওপর নির্ভর করতেই হবে। তবে তাঁদের পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্লভ গ্রুপের রক্ত তৈরি করা।

যুক্তরাজ্যের এনএইচএস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টের ট্রান্সফিউশন বিভাগের চিকিৎসা পরিচালক ফারুখ শাহ বলেন, ‘তাঁদের এ গবেষণা লোহিত রক্ত​​কণিকা তৈরির জন্য ভিত্তি স্থাপন করবে। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষাগারে তৈরি রক্ত সিকল সেলের মতো বিরল রক্তের রোগের ক্ষেত্রে নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে।’

এনএইচএস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়াও এ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ব্রিস্টল, কেমব্রিজ ও লন্ডনের গবেষকেরা। তাঁরা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে পুরো দেহে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা লোহিত রক্তকোষের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, পরীক্ষার জন্য কৃত্রিম রক্তের সঙ্গে তেজস্ক্রিয় পদার্থ যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের তেজস্ক্রিয় উপাদান মূলত চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম রক্ত শরীরে কতক্ষণ স্থায়ী থাকে, তা পর্যবেক্ষণে এটি কাজে দেবে। এরপর সুস্থ শরীরে চার মাসের ব্যবধানে কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালন করে এর কার্যকারিতার সময় নির্ধারণ করা হবে।

তবে কৃত্রিম রক্ত তৈরির ক্ষেত্রে গবেষকেরা আর্থিক ও কারিগরি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন। তাঁদের দাবি, সাধারণ রক্তদান পদ্ধতিতে খরচের চেয়ে কৃত্রিম রক্ত তৈরির খরচ অনেক বেশি হবে। এ ছাড়া স্টেম সেল সংগ্রহের বিষয়টিও একটি চ্যালেঞ্জ। যথেষ্ট পরিমাণ স্টেম সেল না পাওয়া গেলে রক্তের পরিমাণ হবে খুব অল্প। চিকিৎসাক্ষেত্রে যে পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন পড়ে, সে পরিমাণ রক্ত তৈরি করতে গেলে এ ক্ষেত্রে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যাশলি টয়ি বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে যতটা সম্ভব রক্ত তৈরি করতে চাই। তাই আমার লক্ষ্য হচ্ছে যন্ত্রে ভরা একটি ঘর, যেখান থেকে স্বাভাবিক রক্তদানের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করা যায়।’