ভ্যালেরি জালুঝনি বলেন, খেরসন থেকে পালানো ছাড়া রাশিয়ার সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। এটা সম্ভব হয়েছে ইউক্রেনের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের জন্য। এখন পর্যন্ত খেরসনের ১ হাজার ৩৮১ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের খবরের পর খেরসনে ইউক্রেনীয় সেনাদের বড় অগ্রগতি হয়েছে। ওই টেলিগ্রাম পোস্টে ভ্যালেরি জালুঝনি বলেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের সেনারা সাত কিলোমিটার সামনের দিকে এগিয়েছেন, দখলে এসেছে ১২টি স্থাপনা। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

খেরসন অঞ্চলের রাজধানী খেরসন শহর। সেখান থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তরে স্নিহুরিভকা গ্রাম। আজ এই গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেন ইউক্রেনের সেনারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউক্রেনের সেনাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন স্নিহুরিভকা গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এ সময় তাঁদের উল্লাস করতে দেখা যায়।

গতকাল বুধবার সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় মস্কো। খেরসন শহর ছাড়াও নিপার নদীর পশ্চিম পার থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে নিতে বলা হয় ওই নির্দেশনায়। গত ৯ মাসের যুদ্ধে ইউক্রেনে বিভিন্ন অঞ্চলের রাজধানীগুলোর মধ্যে শুধু খেরসন শহরই রাশিয়ার দখলে ছিল।

এদিকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কিয়েভের কর্মকর্তারা। তাঁদের ধারণা, এলাকাগুলো ছেড়ে যাওয়ার আগে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারেন রুশ সেনারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মুখপাত্র মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, রাশিয়া খেরসনকে ‘মৃতদের শহর’ বানাতে চাইছে।

শহরের সব জায়গায় তারা মাইন পুঁতে রেখেছে। এমনকি নিপার নদীর পূর্ব পাড় থেকে খেরসন শহরে গোলাবর্ষণের পরিকল্পনা করছে তারা।

গত সেপ্টেম্বরে ইউক্রেনে নিজেদের দখলে থাকা চার অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে অঙ্গীভূত করার ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই অঞ্চলগুলোর একটি ছিল খেরসন। এর এক মাসের কিছুটা বেশি সময় পর খেরসন শহরে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ মস্কোর জন্য বড় পরাজয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। আর সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার সমর্থন দিলেও এটি রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ক্রেমলিনপন্থী বিভিন্ন পক্ষ ও রুশ গণমাধ্যমগুলো।

রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়ান টাইমস-এর (আরটি) প্রধান মারগারিতা সিমোনইয়ান বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত কারও জন্য সহজ নয়। যাঁরা সিদ্ধান্তটা নিয়েছে,ন তাঁদের জন্য নয়, আমাদের জন্যও নয়। তবে এখনো প্রার্থনা করছি এমনটি শেষ পর্যন্ত ঘটবে না।’