সম্প্রতি ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে গ্যাজপ্রম। রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান একটি মাধ্যম নর্ড স্ট্রিম ১ পাইপলাইন। ওই পাইপলাইনের যে সক্ষমতা, বর্তমানে তার ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে জার্মানিতে।

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির ৪০ শতাংশ সরবরাহ করেছে মস্কো। ফলে রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় ইউরোপে বেশ বড় একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির কারণে গ্যাসের পাইকারি দাম বেড়েছে নাটকীয়ভাবে।

ইউরোপে সাধারণত শীতকালে গ্যাসের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বেশ কিছু দেশ শীতের কথা ভেবে সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

গতকাল বুধবার জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ জ্বালানি কোম্পানি সিমেন্স এনার্জির কারখানা পরিদর্শন করেছেন। রাশিয়ার টারবাইন এখন সেখানেই আছে। কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, টারবাইনটি যেকোনো সময় রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুত।

ওলাফ শলৎজ রাশিয়ার অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করে এ সময় বলেন, ‘কিন্তু কাউকে তো বলতে হবে যে এটা আমার চাই।’

মস্কো বলছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে না কেবল এমন লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া হলেই তারা টারবাইনটি ফিরিয়ে নেবে এবং ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করবে।

গত জুনে নর্ড স্ট্রিম ১ পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪০ কমিয়ে দিয়ে গ্যাজপ্রম জানায়, কানাডায় মেরামত করতে দেওয়া টারবাইনটি ফেরত পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এ জন্য গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে তারা। এ ছাড়া প্রতিবছর ওই পাইপলাইনের মেরামত করা হয়। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি টানা ১০ দিন ধরে নর্ড স্ট্রিম ১ দিয়ে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল।

গতকাল থেকে আবার সেই পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে, তবে এবার নর্ড স্ট্রিম ১ দিয়ে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এর কারণ হিসেবে অবশিষ্ট দুই টারবাইনের মধ্যে একটির কারিগরি ত্রুটির কথা বলছে রাশিয়া।

গত সপ্তাহের রাশিয়ার এমন ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইকারি মূল্য ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বার্লিন বলছে, সরবরাহ কমানোর পেছনে রাশিয়া কারিগরি ত্রুটির যে কথা বলছে, প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো সমস্যা নেই। এদিকে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা জার্মানি। জুনের শেষে জার্মানি তাদের মোট আমদানির ২৬ শতাংশের সরবরাহ পাচ্ছিল রাশিয়া থেকে।

রাশিয়ার সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন জার্মানি অন্য উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গ্যাসের ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু পরিকল্পনাও নিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে নাগরিকদের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে সতর্কও করেছে দেশটির সরকার।

এদিকে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের জন্য নর্ড স্ট্রিম ২ নামে আরেকটি পাইপলাইনের কাজ শেষ হয়েছে। সেটি চালু করা নিয়ে বার্লিন ও মস্কোর মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু এর মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিবাদে এটি নিয়ে আলোচনা থেকে সরে গেছে জার্মানি।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন