ট্রাম্পের আক্রমণের মুখেও পোপ বললেন, যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেই যাবেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণের শিকার হওয়ার পরও পোপ চতুর্দশ লিও বলেছেন, তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেই যাবেন।
গতকাল সোমবার আলজেরিয়াগামী উড়োজাহাজে বসে পোপ লিও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেন।
পোপ চতুর্দশ লিও প্রথম মার্কিন পোপ। তিনি বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ক্যাথলিক খ্রিষ্টানের প্রধান ধর্মগুরু। এবার ১০ দিনের সফরে তিনি আফ্রিকার চারটি দেশ ভ্রমণ করবেন। ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে যাত্রাপথে পোপ বলেন, ‘যিশুখ্রিষ্টের বার্তার অপব্যবহার করা হচ্ছে।’
উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পোপ বলেন, ‘আমি তাঁর (ট্রাম্প) সঙ্গে কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। কিছু মানুষ যেভাবে যিশুখ্রিষ্টের বার্তার অপব্যবহার করছে, সেটা ঠিক বলে আমার মনে হয় না।’
পোপ সাংবাদিকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলেই যাব এবং শান্তি, আলোচনা ও দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করব, যেন সমস্যার ন্যায্য সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।’
‘আজ বিশ্বের অনেক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। আমি মনে করি, কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে, বলতে হবে, এর (যুদ্ধের) চেয়ে ভালো পথ আছে’, বলেন পোপ।
লিও শান্তি স্থাপনকারীদের আশীর্বাদ করে বলেছেন, ‘গির্জার বার্তা, আমার বার্তা, যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষায় শান্তি স্থাপনকারীরা আশীর্বাদে ধন্য। আমি আমার কাজকে রাজনৈতিকভাবে বা নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখি না।’
সম্প্রতি প্রকাশ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করেছেন পোপ। গত শনিবার যুদ্ধের উন্মাদনার তীব্র নিন্দা করে তিনি শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং হোয়াইট হাউসের কঠোর অভিবাসননীতির সমালোচনা করে পোপের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প গত রোববার তাঁকে ‘ভয়াবহ’ বলেছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘পোপ লিও অপরাধের বিরুদ্ধে দুর্বল এবং তিনি পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়াবহ।’