সিনট বিবিসিকে বলেন, এ ধরনের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকাটা কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন যা কিছুই খাই বা পান করি না কেন, প্রায়ই আমার প্রচণ্ড পেটব্যথা হয়, নয়তো তীব্র বমি ভাব অথবা বমি হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে এখন পুরোপুরি নল দিয়ে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সিনটকে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। খেতে হচ্ছে পাচনযোগ্য বিস্কুট।

২৫ বছর বয়সী এ নারী বলেন, ২০১৮ সালে প্রথম তাঁর শরীরে লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে। লক্ষণগুলো এতটাই বিরল ছিল যে শুরুতে চিকিৎসকেরাও বুঝতে পারছিলেন না, কী হয়েছে। উপসর্গগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে সিনট বলেন, ‘খাবার খাওয়ার পর আমার মনে হয় যা খেয়েছি, তা বুকের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে আটকে আছে। তখন মনে হয় ব্যথা থেকে রেহাই পেতে আমাকে বমি করতে হবে।’

সিনট বলেন, গত জানুয়ারিতে তিনি একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হন। সে ভাইরাস তাঁর শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে আক্রমণ করে। এতে তাঁর উপসর্গগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। টালিয়া সিনটের বাবা পিটার সিনট তাঁকে লন্ডনের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ওই চিকিৎসক সিনটের শরীরে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস শনাক্ত করেন।

পিটার বলেন, গ্যাস্ট্রোপেরেসিসের সমস্যা হলে তা একেবারে সারিয়ে তোলা যায় না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এখন সিনটের পরিবার তাঁর চিকিৎসার খরচ বাবদ প্রায় ৮০ হাজার পাউন্ড পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করতে চাইছে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে চিকিৎসকেরা তাঁর পেটে গ্যাস্ট্রিক পেসমেকার যন্ত্র স্থাপন করবেন। এটি সিনটের পেটের মাংসপেশিতে স্পন্দন তৈরি করবে। এতে তাঁর খাবার হজম হবে।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, চিকিৎসা না করানো হলে পাচনযোগ্য বিস্কুট খেয়েই সিনটকে বেঁচে থাকতে হবে।