ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে আটকে পড়া দুই থেকে আড়াই কোটি টন খাদ্যশস্য উন্মুক্ত করার ব্যাপারে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়টি আগামী সপ্তাহে ঘোষণা আসতে পারে বলেই তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সংকেত দিয়েছেন।

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের বৈঠকের আগেই এবারের বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়গুলো আবার পর্যালোচনা করা হবে এবং চুক্তি করা হবে।’

তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবে আঙ্কারা। ইউক্রেন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে যৌথভাবে বন্দরে শস্যের কার্গো পরীক্ষা করা হবে।

তবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের গুতেরেস বলেছেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের এখনো অনেক সদিচ্ছা দরকার ও সব পক্ষের প্রতিশ্রুতি দরকার।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের এ আলোচনার ফল নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল তাঁকে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা বলেছেন। আগামী দিনগুলোতে জাতিসংঘের মহাসচিবের শর্তগুলোতে সম্মতির কথা জানান তিনি।

তুরস্ক ও ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়া ও জাতিসংঘের সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র গঠন করা হবে।

জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রে ইয়ারমাক বলেন, ‘এই যৌথ সমন্বয় কেন্দ্রের কাজ হবে সাধারণ পর্যবেক্ষণ ও কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে সহযোগিতা করা।

অবশ্য আলোচনার ফলাফল নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

প্রধান বৈশ্বিক গম সরবরাহকারী ছাড়াও রাশিয়া বৃহৎ সার রপ্তানিকারক দেশ। ইউক্রেনও ভুট্টা ও সূর্যমুখী তেলের অন্যতম উৎপাদক দেশ। বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ ও বিশ্বের খাদ্যবাজার স্থিতিশীল করার জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। তবে গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি আলোচনা হওয়ার আগে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

হামলা অব্যাহত

ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের আলোচনার মধ্যেও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেছেন, রুশ সেনারা গতকাল বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের মাইকোলাইভ শহরে বেশ কিছু বেসামরিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। শহরটির মেয়র আলেকজান্ডার শেঙ্কিভিচ বলেছেন, উদ্ধারকারীরা এখনো সেখানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দনবাসের শিল্পাঞ্চলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেখানকার ক্রামাতোরস্ক শহরে রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে গত বুধবার দনবাসের একটি স্কুলে রুশ বাহিনী হামলা চালায়। রুশ বাহিনীর পক্ষ থেকে বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সেনারা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন