সাবেক সেনা কর্মকর্তা রামোস ক্যাথলিক অধ্যুষিত ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া প্রথম প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান। দেশের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তবে তাঁর প্রজন্মের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতোই রামোসও সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মারকোস সিনিয়রের অধীন কাজ করেছেন। ফার্দিনান্দ মারকোসের শাসনামলে হাজারো মানুষকে হত্যা ও কারাবন্দী করা হয়েছিল।

রোববার রামোসের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। বলা হয়, রামোসের মৃত্যুতে পরিবারটি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’। তবে রামোসের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

আইনপ্রণেতা, কূটনীতিক, সাবেক রাজনীতিবিদ এবং নতুন প্রশাসন রামোসের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে।

ফিলিপাইনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল ভালদেজ রামোস আজ মারা গেছেন। সামরিক কর্মকর্তা ও সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে জীবন কাটিয়ে দেওয়া মানুষটির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কাজগুলো সব সময় অনুসরণ করা হবে এবং তা আমাদের জনগণের হৃদয়ে চিরকাল গেঁথে থাকবে।’

ফিলিপাইনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল শোক প্রকাশ করেছে। রামোসকে ‘আত্মনিবেদিত রাষ্ট্রপ্রধান’ ও ‘গণতন্ত্রের স্তম্ভ’ বলে উল্লেখ করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী রামোস সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে আধা সামরিক প্রতিষ্ঠান ফিলিপাইন কনস্তাবুলারির কমান্ডার নিযুক্ত হন রামোস। সাবেক স্বৈরশাসক মারকোস ১৯৭২ সালে সামরিক আইন ঘোষণার পর ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়নের জন্য এ প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হতো।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মারকোস সরকারের পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতেন রামোস। তবে ১৯৮৬ সালে মারকোস সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাঁর পক্ষ ত্যাগ করায় অনেকের কাছে তিনি বীর হিসেবে পরিচিত। ওই অভ্যুত্থানে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। তবে কেউ কেউ আবার মারকোস সরকারের অধীন সামরিক আইন কার্যকর করার জন্য তাঁকে এখনো ক্ষমা করতে পারেন না।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন