‘বিদায় সাভা, আমাকে ভালোবেসো’: পম্পেই নগরীর দেয়ালে প্রাচীন প্রেমপত্র
রোমান সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধ নগরী পম্পেই। একসময় বাসিন্দাদের পদচারণে ছিল মুখর। সে সুদূর অতীতের কথা। নগরীটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে মানুষের জানার আগ্রহের তো কমতি নেই। কেমন ছিল পম্পেইয়ের মানুষ, তা জানতে যুগ যুগ ধরে চলেছে গবেষণা। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানে এবার নতুন কিছুর সন্ধান মিলেছে। তার একটি—দেয়ালে লেখা প্রেমপত্র।
দেয়ালটি কোনো বাড়ির নয়, বলা চলে গলির পাশের একটি প্রাচীর। গলিটি পম্পেইয়ের নাট্যমঞ্চগুলোকে ভিয়া স্তাবিয়ানা নামে নগরীর ব্যস্ত একটি সড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। সেই দেয়ালের ওপর সম্প্রতি পাওয়া গেছে প্রেমপত্রটি। নতুন আবিষ্কারের মধ্যে আরও রয়েছে দেয়ালটিতে লেখা প্রতিদিনের নানা স্বীকারোক্তি এবং অন্যের বিষয়ে নিন্দামন্দ। রয়েছে রোমান যোদ্ধাদের লড়াইয়ের চিত্রও।
দেয়ালের প্রেমপত্রটি একজন প্রেমিকের বিদায়বার্তা। তাতে লেখা, ‘আমি খুবই তাড়াহুড়ার মধ্যে রয়েছি। বিদায় আমার সাভা। আমাকে ভালোবেসে যেয়ো।’ ভালোবাসামাখা আরেকটি লেখা মেথ নামের এক দাসীর। সেখানে তিনি ক্রেস্টো নামের এক ব্যক্তির প্রতি নিজের অনুরাগের কথা তুলে ধরেছেন। আর দেয়ালে এরাতো নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এরাতো ভালোবাসে...।’
পম্পেইয়ের ওই দেয়ালটি আবিষ্কৃত হয়েছিল ২৩০ বছর আগে। সেখানে আগেও গবেষণা চালানো হয়েছিল। ফলে নতুন কিছু পাওয়ার আশা ছিল না বিজ্ঞানীদের। তবে ধন্যবাদ দিতে হয় রিফ্লেকটেন্স ট্রান্সফরমেশন ইমেজিং (আরটিআই) নামের নতুন এক প্রযুক্তিকে। এটি ব্যবহার করে দেয়ালের ওই লেখাগুলোসহ নগরীজুড়ে মোট ৭৯টি নতুন লিপির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ইতালির নেপলস শহরের খুব কাছে অবস্থিত পম্পেই। যুদ্ধবিগ্রহ বা কালের পরিক্রমায় ধ্বংস হয়নি নগরীটি। প্রায় দুই হাজার বছর আগে ৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ে। লাভা আর ছাইয়ে তলিয়ে যায় পম্পেই নগরী। এর ফলে সেখানে কিছু জিনিস এতটাই অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে যে দেখলে মনে হবে কিছুক্ষণ আগেও নগরীতে মানুষের আনাগোনা ছিল।
পম্পেইয়ে নতুন আবিষ্কারগুলো করেছেন প্যারিসের সোরবোন ইউনিভার্সিটির গবেষক লুই আতাঁ ও কানাডার কুইবেক ইউনিভার্সিটির গবেষক মেরি আদেলিন লা গেনেক। তাঁদের কাজে সহায়তা করেছে পম্পেই নগরীর কর্তৃপক্ষ। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টার নাম দেওয়া হয়েছে ‘করিডর হুইসপারস’, অর্থাৎ ফিসফিসানির গলি।
যে আরটিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন আবিষ্কারগুলো করা হয়েছে, তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ পম্পেই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার পরিচালক গ্যাব্রিয়েল জুখট্রিয়েগেল। তিনি বলেন, পম্পেইয়ে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি লিপি পাওয়া গেছে। এগুলো প্রাচীন বিশ্বের অমূল্য ঐতিহ্য। গবেষকেরা এখন আরেকটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে দেয়ালে লেখা সব কথা পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা যাবে।